বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির বিবৃতি :প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গত ১১ আগস্টের (২০১৪) জাতীয় পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রেরিত একটি প্রতিবেদন বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম— “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি।” বিবৃতি প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি টিআইবি প্রকাশিত একটি অসম্পূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সততা নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করবার লক্ষ্যেই ইউজিসির পক্ষ থেকে বিবৃতিটি প্রদান করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত কতগুলো বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১১ আগস্টের বক্তব্যে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। বৈধ-অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেসব প্রশ্নের সমাধান রয়েছে। অতিসম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কৃতকার্য সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে স্থান দেয়া সম্ভব হবে না। বিকল্প স্থান হিসেবে তারা বেছে নেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কিন্তু তার আগে দেশের বৈধ এবং অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে। কাজেই বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতিটি অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতি থেকে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৭টি। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৭৯টি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতি থেকে জানা যাচ্ছে “ইউজিসির উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প-এর আওতায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৩টি এবং বর্তমানে ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১৪টি একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ড প্রকল্প এওয়ার্ড লাভ করেছে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগতমানের অগ্রগতিরই প্রমাণ।” মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতি থেকে আরও জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২-এর মধ্যে কিছু আইনগত দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতার সুযোগে কতিপয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমগ্র বাংলাদেশে নানা রকম শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল। সেই ব্যবসা প্রতিরোধকল্পে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পার্লামেন্টের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ প্রণয়ন করে। পার্লামেন্ট থেকে ২০১০ আইন পাস হবার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শাখা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অবৈধ বলে ঘোষিত হয়। নতুন আইন পাস হবার পর দেশের অধিকাংশ শাখা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলেও ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ-নির্দেশকে উপেক্ষা করে কতিপয় শাখা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সার্টিফিকেট বিক্রির মতো ঘৃণ্য কাজ করতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না। সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি নিয়ে টিআইবি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সে দুর্নীতিগুলো সংঘটিত হয়েছে মূলত শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিআইবি’র রিপোর্টের ফলে জাতির কাছে ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবার আশংকা দেখা দেয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অতিদ্রুত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিকদেরকে ডেকে টিআইবি প্রতিবেদনের তেমন কোন সত্যতা নেই বলে জানিয়ে দেন। তবে আলোচনার একপর্যায়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকেও স্বীকার করতে হয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে অবৈধ কিছু শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী আয়োজিত আলোচনা সভায় উপাচার্যদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছিল, বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তালিকা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জাতির কাছে তুলে ধরা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১১ আগস্টের বিবৃতিতে উপাচার্যদের সেই দাবিরই প্রতিফলন ঘটেছে। ইউজিসির বিবৃতিকে কেন্দ্র করে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হয়ে গেছে। আমার জানামতে, ১২ আগস্ট তারিখের দৈনিক ইত্তেফাকে নিজামুল হকের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। লেখার শিরোনাম— “প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যর্থ ইউজিসির উদ্যোগ।” লেখার শুরুতেই তিনি উল্লেখ করেছেন— “দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্ব-নিরসন ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস বন্ধে ইউজিসির কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। ফলে অবৈধ শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনাসহ শিক্ষার নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে যাচ্ছে।” নিজামুল হকের বক্তব্যকে হয়তো ভিত্তিহীন বলা যাবে না, তবে তিনি যখন বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস বন্ধে ইউজিসির কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না’, এক্ষেত্রে তার সাথে খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করতেই হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস বন্ধে ইউজিসির উদ্যোগ যে বহুলাংশে সফল হয়েছে, তার কিছু উদাহরণ আমি তুলে ধরছি। উদাহরণ হিসেবে আমি রাজশাহী মহানগর এলাকাটিকে বেছে নিচ্ছি। শিক্ষানগরী হিসেবে সমগ্র দেশ জুড়ে রাজশাহীর আলাদা রকমের পরিচিতি আছে। সমগ্র উত্তরবঙ্গের বিদ্যাপীঠ বলে পরিচিত রাজশাহী মহানগর। শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজশাহীর স্বর্ণোজ্জ্বল ঐতিহ্য আছে। এক কথায় বলা যায়, শিক্ষার জন্য রাজশাহীর মাটি বেশ উর্বর। রাজশাহী মহানগরে কোন বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় রাজশাহীর শাখা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন রমরমা ব্যবসা চালিয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির কঠোর অবস্থানের ফলে রাজশাহীর অবৈধ শাখা ক্যাম্পাসগুলো দ্রুত বন্ধ হওয়ার পথে। এখনও যে দু’একটি অবৈধ ক্যাম্পাস ভর্তি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, ইউজিসির ১১ আগস্টের বিবৃতি প্রচারের ফলে আশা করা যায় তাদের সে ভর্তি প্রক্রিয়া থেমে যাবে, কারণ ইউজিসি প্রচারিত বিবৃতিতে সরকার ও কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই শুধু প্রকাশ করা হয়নি, পাশাপাশি অত্যন্ত সততার সাথে অনুমোদিত ক্যাম্পাসের ঠিকানাও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরে দুটো বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-ঠিকানা দেয়া হয়েছে। তালিকার ক্রমিক নম্বর ৫৪-তে রয়েছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-ঠিকানা এবং ৭২ ক্রমিকে রয়েছে ‘নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র নাম-ঠিকানা। ইউজিসি থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজশাহীতে ইউআইটিএস তাদের শাখা বন্ধ করে দিয়েছে, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমেরিকা বাংলাদেশ ক্যাম্পাস শাখা অফিসে পুলিশ এসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। দারুল ইহসান সম্পর্কে ইউজিসির বক্তব্য (“বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ৪টি গ্রুপে বিভক্ত এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা চলমান)”। ইউজিসির এই মন্তব্যের ফলে কোনো শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হতে চাইবে না, ফলে প্রাকৃতিক নিয়মেই দারুল ইহসানের শাখা ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। রাজশাহীর বিনোদপুরে গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। কোন কার্যক্রম নেই। ইউজিসির তালিকায় গ্লোবালের ঠিকানা সুগন্ধা, রায়পাশা, ঝালকাঠি। গ্লোবাল সম্পর্কে ইউজিসির মন্তব্য, (অনুমোদন প্রাপ্তির পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরকার বা মঞ্জুরি কমিশনের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউজিসির সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজশাহীতে তাদের কার্যক্রম চালাতে প্রস্তুত নয়। রাজশাহী মহানগরে বর্তমানে শুধু নর্দান ইউনিভার্সিটি নামের একটি শাখা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইউজিসির দৃষ্টিতে রাজশাহীতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসের কার্যক্রম অবৈধ। নর্দানের ব্যাপারে মামলা বিষয়ক কোন তথ্য ইউজিসির বিবৃতিতে নেই, তার অর্থ আদালতের দোহাই দিয়ে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ আর তাদের থাকছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে ভয় পাবে। কাজেই শাখা ক্যাম্পাস বন্ধের ব্যাপারে রাজশাহী মহানগরের চিত্র ইতিবাচক বলেই বিবেচনা করতে হবে। শুধু রাজশাহী মহানগর নয়, খোঁজ নিলে দেখা যাবে সমগ্র বাংলাদেশে একই চিত্র বিরাজ করছে। শাখা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে ‘লিজ’ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিতে লিজ দাতা এবং লিজ গ্রহীতা উভয়পক্ষই প্রচুর অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে। মানসম্মত শিক্ষার দিকে তাদের কোন নজর নেই। এতে সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্ট তার উদাহরণ। শাখা ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ হয়ে গেলেই টিআইবির পক্ষে এ ধরনের রিপোর্ট লিখবার আর কোন সুযোগ থাকবে না। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির চেয়ারম্যান মহোদয়ের কঠোর পদক্ষেপের কারণে দেশের অধিকাংশ শাখা বিশ্ববিদ্যালয় যে বন্ধ হয়ে গেছে, সে পরিসংখ্যান আমি তুলে ধরেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষ আর একটু তত্পরতা চালালেই দেশের শাখা ক্যাম্পাসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা বলা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকার যে জঞ্জাল সৃষ্টি করে রেখে গিয়েছিল, সে জঞ্জাল পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা এখনও হয়তো সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. এ.কে. আজাদ চৌধুরীর আন্তরিক প্রয়াসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার মানের অনেক উন্নতি হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বেশকিছু পুরাতন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব জায়গায় ভবন তৈরির মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এই অর্জনগুলোকে ছোট করে দেখবার কোন সুযোগ নেই। ইউজিসি পত্র-পত্রিকায় বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-ঠিকানা প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে বোঝাতে চেয়েছে তাদের দেয়া নাম-ঠিকানার বাইরে অন্য কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা যেন ভর্তি না হয়। ভর্তি হলে তারা প্রতারিত হবে এবং সেই প্রতারণার দায়-দায়িত্ব ইউজিসি নেবে না। বৈধ-অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তালিকা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের পর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের দায়-দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তারা এখন পরিষ্কার বুঝে নিতে পারবে দেশের ক’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৈধ এবং ক’টি অবৈধ। যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের দোহাই দিয়ে শিক্ষাক্রম চালাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে তা লেখা থাকবার কথা নয়। সেক্ষেত্রে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে আদালতের রায়ও সাথে নিয়ে যেতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১০ আইনটি পাস হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পার্লামেন্টে। পার্লামেন্ট থেকে পাস হওয়া আইনকে অগ্রাহ্য করবার সুযোগ যে আদালতেরও নেই, বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মামলা করতে গেলে আদালত বাদীকে সেই কথাই জানিয়ে দিয়েছে। ২০১০ আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসগুলো যে অবৈধ, মাননীয় এটর্নী জেনারেল একদিন আদালতে দাঁড়িয়ে বলে দিলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অবৈধ ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীরা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে তাকিয়ে মাননীয় এটর্নী জেনারেল আদালতে দাঁড়িয়ে কথাটি বলবেন, তাঁর কাছে সেটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মামলা বছরের পর বছর আদালতে এভাবে ঝুলে থাকলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতেই পারে।  লেখক : সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ই-মেইল-nbiu.edu@gmail.com