অবৈধ গ্যাস সংযোগ
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩০
দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ গ্যাস লাইন রহিয়াছে কমপক্ষে ২শত কিলোমিটার। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও এই তথ্যের সমর্থন পাওয়া যায়। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত এক রিপোর্টে বলা হয়, সময়-সময়ান্তরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালান হইয়া থাকে এবং কিলোমিটারের পর কিলোমিটার সংযোগ কাটিয়াও দেওয়া হয়। কিন্তু দুই একদিনের মধ্যেই আবার সেই কর্তিত সংযোগ জোড়াও লাগিয়া যায়। এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলিয়া আসিতেছে বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত এক বত্সরে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী পাঁচটি জেলায় পরিচালিত পঞ্চাশটিরও বেশি বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ কিলোমিটার অবৈধ বিতরণ লাইন অপসারণ করা হয়। কিন্তু বিচ্ছিন্ন করিয়া দেওয়া সেইসব সংযোগের বেশিরভাগই আবার চালু হইয়া গিয়াছে অল্প সময়ের ব্যবধানে। অভিযোগ রহিয়াছে, তিতাসের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে অপসারিত বিতরণ লাইন পুন:স্থাপিত হইয়া যাইতেছে অবলীলায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রধিনিধিগণেরও নাকি ইহাতে মৌন সম্মতি রহিয়াছে। জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ অবৈধ বিতরণ লাইন অপসারণ বা বিচ্ছিন্ন করিবার বদলে বৈধ করিয়া দিবার পক্ষপাতি। ইতিপূর্বে বহু অবৈধ সংযোগ বৈধ করিয়া দিবার দৃষ্টান্ত আছে। বিষয়টি আপাত কৌতুকপ্রদ মনে হইলেও তাত্পর্যহীন নহে।
এমতাবস্থায়, নিরাসক্তভাবে সমস্যাটির সকল দিক বিচার-বিশ্লেষণ করিয়া বাস্তবোচিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কর্তব্য। মনে রাখা দরকার যে, যাহারা অননুমোদিত লাইনের মাধ্যমে গ্যাস নেন বা নিয়াছেন, তাহারা সেই গ্যাস উড়াইয়া দেন না। রান্নাবান্না কিংবা ছোটখাট কারখানায় ব্যবহার করেন। ইহার সরল অর্থ এই দাঁড়ায় যে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাহা উত্পাদনশীল কাজেই ব্যবহূত হইয়া থাকে। এইক্ষেত্রে লোকসানের দিকটি হইল, সরকার অবৈধ ব্যবহারকারীদের নিকট হইতে কোনো রাজস্ব পায় না। এই প্রক্রিয়ায় গ্যাসখাতে প্রতি বত্সর প্রায় দেড়শত কোটি টাকার রাজস্ব হইতে সরকার বঞ্চিত হইতেছে। ইহার মানে এই নয় যে, তিতাসের গ্রাহক তালিকা বহির্ভূত ভোক্তাগণ বিনা পয়সায় গ্যাস ব্যবহার করিয়া থাকেন। তাহাদের গাঁটের পয়সা কমবেশি ঠিকই খরচ করিতে হয়। সেই টাকা কাহাদের পকেটে যায়, তাহাও অজানা নহে। আর ইহাও ভাবিয়া দেখা দরকার, অবৈধ গ্যাসের ভোক্তাগণের এমন কোনো সাধ্য নাই যে, তাহারা নিজেদের ইচ্ছামত চুরি করিয়া মূল সঞ্চালন লাইন হইতে পাইপ বসাইয়া গ্যাস লইয়া যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে যে কারিগরি জ্ঞান ও উপকরণাদি প্রয়োজন তাহা সাধারণ গ্যাস ব্যবহারকারীদের নাই। এই বাস্তবতায় অবশ্যই ইহা বিবেচনায় নিতে হইবে যে, কেন এবং কিভাবে অবৈধ সংযোগের ব্যাপারটি ঘটিয়া থাকে এবং সে জায়গাটাতেই সমস্যার সমাধানসূত্র খুঁজিতে হইবে। মাঝেমধ্যে ঘটা করিয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালাইয়া খবর তৈয়ার করা হইবে , আবার কয়দিন পরে যেই কদু সেই লাউ হইয়া যাইবে, ইহা কোনো কাজের কথা নহে। ঘা যেইখানে ঔষধ সেইখানেই লাগাইতে হইবে। যাহারা ইতিমধ্যে কোশেশ করিয়া সংযোগ নিয়াছেন তাহাদের গ্রাহক তালিকাভুক্ত করিয়া নেওয়া হইলে সরকার বত্সরে আরও দেড়শত কোটি টাকার রাজস্ব পাইতে পারেন। বিষয়টিকে এইভাবেও তো বিবেচনা করা যায়। এই ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের মতামতেরও গুরুত্ব দিতে হইবে। সেইসঙ্গে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ কাণ্ড ঘটিয়া থাকে তাহাদের চিহ্নিত করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। বিষয়টির প্রতি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষণ করি।