বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলন
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২০:৫৯
আন্দোলন হয়
যেন শান্তভাবে
বিএনপি’র সরকার পতন আন্দোলন সেই কয়েক বছর থেকেই শুনে আসছি, কিন্তু কিভাবে, কখন তারা আন্দোলনে নামবে তার কোনো দিকনির্দেশনা কেন্দ্র থেকে আসছে না, তেমনি কেউ জানেও না। কিন্তু তাদের আন্দোলন যেন শান্ত হয়, জ্বালাও পোড়াও না হয়, কোনো জানমালের ক্ষতি না হয়। সেই প্রত্যাশা জাতির ও দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের।
আজিম উল্যাহ হানিফ
১ম বর্ষ, ডিগ্রি, বিএসএস
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি কলেজ।
দেশের স্বাধীনতা
সার্বভৌমত্বের দিকে
খেয়াল রাখতে হবে
সব শংকা, উত্কণ্ঠা দূর করে আন্দোলনে সফল হতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে নেতা-কর্মীদের একে অন্যের প্রতি আস্থার জায়গাটা। অভ্যন্তরীণ কোন্দল আন্দোলনে চিড় ধরায় এ বিষয়টিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। সর্বোপরি সর্বসাধারণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবে আন্দোলনে সফলতা অবশ্যই আসবে। নতুবা পূর্বের মত বিএনপিকে আবারও পস্তাতে হবে। বুঝতে হবে আওয়ামী লীগ বাইরের কেউ নয়, এ দেশেরই মানুষ। তাদের কৌশলগুলো ভালভাবে বুঝে সামনে এগোতে হবে। মনে রাখতে হবে জ্বালাও-পোড়াও করে আন্দোলন হয় না। এতে সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা কমে যায়। যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন, সে দেশের ক্ষতি যেন না হয়। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে যেয়ে যেন হারাতে না হয় যেটুকু আছে সেটুকুও। উড়ে এসে জুড়ে না বসে কোনো উড়ো শকুন।
মেহেদী হাসান মাসুদ
বি.টি.আই.এস (সম্মান)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
আন্দোলন দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার
কেন্দ্রিক হওয়া উচিত
গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভালো ও মন্দ কাজের প্রশংসা ও সমালোচনা করতে বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে। আর দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হলে অথবা জনগণের অধিকার হরণ করা হলে বিরোধী দলের আন্দোলন করা তখনই যৌক্তিক। কিন্তু নিজের বা গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে কখনো আন্দোলন মেনে নেয়া যায় না। এতে জনগণও সম্পৃক্ত হতে পারে না। বিএনপি’র আন্দোলনের একটা টার্নিং পয়েন্ট চলে গেছে। সেই আন্দোলনে বিএনপি জনসম্পৃক্ততা ঘটাতে পারেনি। সাংগঠনিক দুর্বলতা এখানে স্পষ্ট। এজন্য আন্দোলনের যদি যৌক্তিক প্রয়োজন দেখা দিয়েই থাকে তাহলে বলবো নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে শক্তি অর্জন করা জরুরি। সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমালোচনা অবশ্যই করা প্রয়োজন। বলা হচ্ছে, সরকার সমালোচনায় কান দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, জনগণের চিন্তার সাথে মিল রেখেই বিএনপিকে আন্দোলনে নামতে হবে। যাতে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটবে। জাতিকে হতাশ করে বা বিপদের দিকে ঠেলে দেয় এমন আন্দোলন কখনো কাম্য হতে পারে না।
আবু বকর সিদ্দিক
অর্থনীতি বিভাগ
এম.সি.কলেজ, সিলেট।
আন্দোলন নয়,
চাই দু’দলের
মধ্যে সমঝোতা
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ের আগ পর্যন্ত বিএনপি যে হরতালের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে আর এর ফলে দেশবাসী ছাড়াও গোটা বিশ্বের কাছে অপরাধী হয়ে আছে। আর তাই ধ্বংসাত্মক নয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি’র সরকার পতন আন্দোলনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি সেখানে কিভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাবে? বিএনপি’র এখন বিরোধী দলে না থেকেও সরকারের সঠিক বিরোধিতা আর সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের পক্ষে -জনগণের আস্থা অর্জন করে দলকে সুসংগঠিত করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষ ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ সরকারের পতন চায় না। এক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন-দু’দলের মধ্যে সমঝোতা, সংলাপ। আর এটাই পারে সঠিক গঠণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের এই বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে।
মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ
প্রাণরসায়ন এবং অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, ২য় বর্ষ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা।
বিএনপি আন্দোলনের
পূর্বে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে
আন্দোলনের আগে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে সাজাতে হবে। বর্তমানে বিএনপির মতো বৃহত্ দলটি জনগণকে সম্পৃক্ত করে বড় কোনো আন্দোলন সফল করতে পারেনি। আওয়ামী সরকার তাদের সুবিধামত আইন প্রণয়ন করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করছে এবং গণতন্ত্রের চর্চা ব্যাহত করছে। আজ গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম হুমকির সম্মুখীন। বিচার বিভাগেও রয়েছে তাদের অশুভ প্রভাব। সর্বত্র চলছে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং জনসমর্থন আদায় করে সরকার পতনের আন্দোলনে নামতে হবে। আর আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
মো. আকরাম হোসেন
এলএল.বি (অনার্স) এলএল.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়