গাজা অবরোধ : মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৭
রিচার্ড ফক আন্তর্জাতিক আইন-এর একজন বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক। ২০০৮ সালে তিনি ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। গাজায় ইসরাইলের অমানবিক আক্রমণের খোলামেলা সমালোচনার কারণে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন তাঁর সমালোচনা করেন। রিচার্ড ফক ১৯৫০ সালে আমেরিকার ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। ১৯৬১ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এখানেই তিনি আলবার্ট জি মিলব্যাঙ্ক প্রফেসর অব ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যান্ড প্র্যাকটিস উপাধি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি গুগেনহাম ফেলোও নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। গত ১৪ জুলাই ইসরাইল পরিচালিত অপারেশন প্রটেকটিভ এইজ-এর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। এ-বিষয়ে ইরান রিভিউ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারটি গ্রহণ করেন কৌরশ জিয়াবারি
প্রশ্ন : বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলেছেন—গাজায় ইসরাইল-এর অমানবিক আগ্রাসনের ওপর বর্ণবৈষম্যবিরোধী জাতিসংঘের আইন ১৯৬৬ এর আওতায় পড়ে। আর ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন দ্য সাপ্রেশন অ্যান্ড দ্যা পানিশম্যান্ট অব ক্রাইম অ্যাপার্থিএইড ১৯৭৩’-এর লঙ্ঘন। আপনি কি তাদের সাথে একমত? বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘনের কোন চিহ্নই খুঁজে পাবো না ইসরাইলের আচরণে?
রিচার্ড ফক : ১৯৭৩-এর কনভেনশন ও রোম চুক্তির আওতায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কোনো জাতিসত্তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে। এতে করে আফ্রিকার বর্ণবৈষম্য-এর সময়কার অত্যাচার বা নির্যাতনের মিল থাকার তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। আর বর্ণবৈষম্য তখনই অপরাধ হিসেব বিবেচিত হয়, যখন একটি জাতির বিরুদ্ধে শ্রেণি, জাতিসত্তা, ধর্মের কারণে সরকার কতৃক বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। ইসরাইল-এর বৈষম্যমূলক আচরণের প্রধান শিকার গাজা ও পশ্চিম তীর। এখানে ইহুদি অধিবাসীরা সকল নাগরিক সুবিধা ভোগ করলেও ইসরাইলি আইন অনুযায়ী এ অঞ্চলের পূর্বের আদিবাসী মুসলমানরাই সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে গত চল্লিশ বছর যাবত্। ইহুদি এই নতুন অভিবাসীরা শুধু গাজা ও পশ্চিমতীরকে আলাদা করে রাখতে বড়ো দেয়াল তৈরি করতে পেরেছে, জায়গায় জায়গায় চেক পয়েন্ট নির্মাণ আর জেরুজালেমের সর্বত্র নির্যাতনের বৈধতা আদায় করেছে। ইসরাইলের অসংখ্য সাংবিধানিক আইন বৈষম্যমূলক আচরণ করছে ১৫ লাখ ফিলিস্তিনিদের ওপর। অথচ ১৯৬৭ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের পূর্বে ফিলিস্তিনিরা এখানেই বসবাস করত। বর্ণবৈষম্যের নির্যাতন এখানেও উপস্থিত, কিন্তু তা ততোটা দৃষ্টিগোচর নয়।
প্রশ্ন : আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইসরাইলের এই সামরিক আগ্রাসনকে বৈধতা দানের চেষ্টা করছে। তারা বলছে—আত্মরক্ষার্থে ও সুড়ঙ্গ ধ্বংস করার জন্য নিয়মিত বিরতিতে আক্রমণ চালানোর অধিকার আছে। তারা কখনো ইসরাইলকে বলেনি—চিহ্নিত স্থানে ও সন্দেহজনক স্থানে শুধু আক্রমণ করতে। এই ধরনের গণহত্যা, বিশেষত নারী শিশু, পুলিশ অফিসার, শিক্ষক ও ডাক্তার যারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধকালীন সময়েও বেসামরিক নাগরিক বলে বিবেচিত, তাদের কি আত্মরক্ষার অজুহাতে যুদ্ধে হত্যা করা বৈধ?
রিচার্ড ফক : ইসরাইলের বড়ো তিনটি সামরিক অভিযান গাজায় ২০০৮-২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৪-এর আক্রমণ প্রমাণ করে তারা মূলত হামাসের সাথে সাধারণ জনতার বিশ্বাসের সম্পর্কে ভাঙন ধরাতে চাইছে। সেই সাথে গাজার উপর অবরোধ মূলত সমস্ত গাজাবাসীকে শাস্তি দেয়ার একটা কৌশল। এ ধরনের অবরোধ যে কোনো সাধারণ জনতার ওপর জাতিসংঘের জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। এটা ধারাবাহিকভাবে গাজার জনতা ও সরকারের উপর ইসরাইলের ধারাবাহিক উপহাস। অনেকেই বলেন, হামাসের রকেট হামলা যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন। অথচ তা খুব সামান্যই ক্ষতি সাধন করতে পারে। আসলে এর মাধ্যমে ইসরাইলিরা তাদের আক্রমণের বৈধতা আদায় করতে চায়। কিন্তু এ সমস্যার সমাধানে তাদের সামরিক পন্থায় না করে বেসামরিক উপায়েই করা উচিত। হামাস ঘোষণা দিয়েছে—তারা যুদ্ধবিরতি কখনো মানবে যদি না ইসরাইল অবরোধ তুলে নেয় ও আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয় হামাসের সাথে। হামসা তার কথা রেখেছে। কেননা ইতোপূর্বে কয়েকটি যুদ্ধবিরতিতে আমরা এর বাস্তবতা দেখেছি। আর এ সবকটি যুদ্ধবিরতিই ইসরাইলের আগ্রাসনমূলক নীতি ও আক্রমণের কারণে ভেঙেছে। এ প্রসঙ্গ বাদ দিলেও দেখবেন ইসরাইলের আক্রমণ ফিলিস্তিনিদের উপর নির্বিচারে হয়েছে। তাদের আক্রমণ থেকে ফিলিস্তিনের কোন ভবন, বাসভবন, হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল, গির্জা, জাতিসংঘের অফিসও নিরাপদ ছিল না। এমন নির্বিচারে আক্রমণকে কেউ ইসরাইল আত্মরক্ষামূলক বলতে পারে না। বরং তার সৈন্যদের তো ফিলিস্তিনে পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন লঙ্ঘনের জন্য। অধিকন্তু এটা তো বলতে হবে—প্রতিরোধের অধিকার হামাসের আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী এই অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। এই আইন অনুযায়ী তারাও নির্দ্বিধায় অন্তত ইসরাইলের সামরিকস্থানগুলোতে আক্রমণ করতে পারে।
প্রশ্ন : জাতিসংঘের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে—২০০৯ সালে গাজায় আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ। আর অপারেশন ‘কাস্ট লিড’-এর মাধ্যমে কি তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি? আর যুদ্ধকালীন সময়ে হামাস ও ইসরাইলের আচরণ বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তজার্তিক অপরাধ আদালত হেগে মামলা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। যাতে প্রমাণিত হয়; সত্যি কি ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ প্রমাণিত নয়। কিন্তু দেখা গেল ২০০৯ সালে গোল্ডস্টোন’—এর করা রিপোর্ট এর সত্যতা ইসরাইল অস্বীকার করে। এরপর আর কোনো আন্তর্জাতিক আদালত ইসরাইলের এমন অবৈধ আচরণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তার মানে কি—আন্তর্জাতিক আইন এতটাই ভঙ্গুর ও দুর্বল যে, ইসরাইল সহজেই তাকে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারে। আর নিজেদের অপরাধ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে?
রিচার্ড ফক : এটি সত্য—‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিল গোল্ডস্টোন’—এর রিপোর্টে প্রমাণ করে ২০০৮-২০০৯ সালে ইসরাইল বড়ো ধরনের সামরিক অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু এ রিপোর্টের কোনো অংশই বাস্তবায়ন করা হয়নি। এটাই আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতার প্রমাণ। আর ভূরাজনৈতিক শক্তির ভেটো ক্ষমতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর এই ভূরাজনৈতিক শক্তিগুলো যদি কখনো এক না হয়ে একে অপরকে সাহায্য করে, যেমন লিবিয়ায় ২০১১ সালের আক্রমণে, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে এবং বর্তমানে রাশিয়ার ইউক্রেনের কর্মকাণ্ডে, তবে যে কোন আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন করা যাবে। ব্যবসায়িক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ রাজনৈতিক পরিবেশের উপর নির্ভর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ফিলিস্তিনিদের অধিকারের রক্ষায় এই কারণেই অকার্যকর হয়ে গেছে। আর এ সুযোগে মানবতার বিরুদ্ধে ইসরাইলি নেতারা চরম অপরাধ করে চলছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিদের দুর্দশার কারণে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে। আর গোল্ডস্টোন’—এর রিপোর্টটি এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এ জনমত ‘আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট’-এর আসল মুখোশ উন্মোচন করেছে। কারণ ‘আইসিসি’—এর অনেকটা পরোক্ষ সহায়তায় বর্তমান যুদ্ধের বৈধতা পেল ইসরাইল। ৭৫ বছরের এই যুদ্ধের সুফল পুরোটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে সামরিক শক্তির অধিকারী ইসরাইলের পক্ষে। কিন্তু এতে মানবিকতা বা বৈধতার কোনো ভিত্তিই ছিল না। ইসরাইল তাদের পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমতীরে এক যুগ আগেই রেখেছে। কিন্তু লেবাননের যুদ্ধের সাথে সাথে অবস্থা পরিবর্তন হয়। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ২০০৬ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের আন্দোলন তীব্রতর হয়। আর পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ এর জন্য গাজার অধিবাসীদের পাখির খাচার মতো বন্দি রেখে গণহত্যা চলছে ।
প্রশ্ন : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ব্যাপারে অভিমত কী? এ পর্যন্ত প্রায় দই হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।
রিচার্ড ফক : আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় ও জাতিসংঘের ভূমিকা অনেকটাই অনাকাঙ্ক্ষিত, রহস্যজনক। অবাক হওয়ার বিষয়—যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও ইসরাইলের দ্বারা কয়েকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। পশ্চিমারা মনে করে, ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে প্রথমত রকেটের জবাবে, দ্বিতীয়ত গোপন সুড়ঙ্গগুলো ভাঙার জন্য। ইসরাইলের এ লক্ষ্যে হামাসের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচারমূলক প্রচারণা কাজে দিয়েছে। ফলে ১২ জুন তার পশ্চিম তীর থেকে প্রমাণ ছাড়া হামাস সন্দেহে পাঁচ শ’ জন ফিলিস্তিনিকে অপহরণ করে। রাত্রে ঘেরাও করে বুলডোজার দিয়ে তাদের পরিবার ও বসতবাড়ি ধ্বংস করে। শহরগুলোকে অবরুদ্ধ করে বিমান হামলা চালাতে শুরু করে। আর পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইসরাইল বুঝতে পারে; এবার তার উপর রকেট হামলা হবে। তাই রকেট হামলার অজুহাতে বড়ো ধরনের স্থল সামরিক হামলা চালাতে শুরু করে অনেকগুলো উদ্দেশ্য নিয়ে। ফিলিস্তিনিদের শাস্তি দেয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কারণ ফিলিস্তিনিরা পিএলও ও হামাস মিলে একটি সরকার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। তাদের শিক্ষা দিতে ইসরাইল গাজা ও পশ্চিম তীরকে স্থায়ী অপশাসন মানতে চাপ দিল। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে—মিসর ও সৌদি আরব ইসরাইলের সমর্থক। ইসরাইল এ অঞ্চলের সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ আরও কয়েকটি দেশের সাথে বন্ধুত্বের সর্ম্পক রাখছে। আর এই জোটই মূলত ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমানে পেশিশক্তির প্রয়োগ দেখাচ্ছে।
প্রশ্ন : ২০১২ জাতিসংঘের গণপরিষদের ভোটে ফিলিস্তিনিকে জাতিসংঘের পরিদর্শকের সম্মান দেয় এবং ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার দাবিদার মনে করে। আপনি ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত একটি দেশ হওয়া ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। বর্তমানে ফিলিস্তিনের মোট ১৩০টি দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১১ সালে ইউনেস্কো-এর সদস্যপদ তারা লাভ করে। জাতিসংঘের পরিদর্শক ও সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা ইসরাইলের বিরক্তির কারণ আর আপনি কেন মনে করেছেন ইসরাইল এ কারণে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ?
রিচার্ড ফক : ইসরাইলের কূটনীতি জানাটা বড়ই কষ্টসাধ্য। তাদের কূটনীতি ইসরাইল রাষ্ট্রকে আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরির দৃষ্টিভঙ্গি। যার লক্ষ্য ফিলিস্তিন কখনো রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া। এখন ফিলিস্তিন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর ইসরাইল যেহেতু পুরো পশ্চিম তীর দখল করতে চায়, তাই এ স্বীকৃতি আরও বেশি ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্বের কারণে এ ধরনের আক্রমণ যুদ্ধপরাধ, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে’ উঠতে পারে। আর এটাকে ইসরাইল তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা মনে করছে। যেকোন আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করা, ইসরাইলের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার জন্য বড়ো বাধা। এটা ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধের চেয়ে ইসরাইলের বেশি মাথাব্যথার কারণ, যা ইসরাইলের তথাকথিত যুদ্ধের বৈধতা আরো কমিয়ে দেয়।
প্রশ্ন : ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের জায়গায় ইসরাইলের নিয়মিত বসতি স্থাপনকে আপনি কীভাবে দেখেন? এই বসতি স্থাপনই হাজারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে শান্তি আলোচনায়। এমনকি আমেরিকা ইসরাইলের সামরিক সহায়ক হয়েও নতুন বসতি স্থাপন নিয়ে সমালোচনা করেছে। কারণ এই বসতিগুলো মূলত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন কি এ ধরনের বসতি স্থাপন সমর্থন করে?
রিচার্ড ফক : ইসরাইলের বসতি স্থাপন বিশ্বের সব স্থানেই ঘৃণিত একটি বিষয়। যা চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের ৪৯ অনুচ্ছেদের ৬ আর্টিকেল এর নিশ্চিত লঙ্ঘন। যাতে বলা হয়েছে—একটি দখলকৃত অঞ্চলে দখলদার শক্তির জনসাধারণকে স্থানান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বসতি স্থাপনের আইন লঙ্ঘন করছে। এই আইনের দৃষ্টিতে তাদের বসতি স্থাপন ফিলিস্তিনে একটি আগ্রাসন। তারপর আবার এই ইহুদি বসতি নিয়ে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার কোনো মানে হয় না। এখানে এক শ’ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে পাঁচ লাখেরও বেশি লোকের আবাসভূমি গড়ে তোলা হয়েছে। ২০১৪ এর মাসের পর মাস শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানে—কূটনৈতিক পন্থায় এই সমস্যা সমাধান হওয়ার নয়। আর যে সমস্ত দেশ মধ্যস্থতা করার ভান করছে, তাতে কোনো কাজ হবে না। গাজায় আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইসরাইল আবার রাজনৈতিকভাবে পরাজয় বরণ করল।
অনুবাদ : শামস আরেফিন