জবরদখলে আটকা কলাতলীর পার্ক প্রকল্প! 

২০১৯ সালে নিম্নআদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া ছয় মাসের স্থিতাবস্থার মেয়াদ ছয় মাস পর পর বাড়িয়ে সরকারি একটি মাঠের চারপাশ ভূমিদস্যুরা জবরদখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কক্সবাজারের কলাতলীতে আটকে আছে দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ প্রকল্প। 

২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে তিনটি খোলা মাঠ কাম পার্ক নির্মাণের কথা। দুটি সম্পন্ন হলেও কলাতলীর লংবিচ হোটেল এলাকার জায়গাটি জবরদখলের কারণে পার্ক নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে পারছে না গণপূর্ত বিভাগ। ১৯৬৩-৬৪ সালে অধিগ্রহণ করা জমির ব্যক্তি মালিকানা দাবি করে একটি চক্র আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্থিতাবস্থা নিয়ে জবরদখলে মত্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগ জানায়, মালিকানার পক্ষে নিম্ন বা উচ্চ আদালতের কোথাও যথাযথ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি চক্রটি। এরপরও সঠিক তথ্য সম্পর্কে হাইকোর্টকে অন্ধকারে রেখে প্রকল্পে ‘স্থিতাবস্থা বজায়’ রাখার নির্দেশনা এনে উন্নয়নকাজ সীমিত করেছে। গণপূর্ত বিভাগ আদালতের নির্দেশনা মানলেও ‘স্থিতাবস্থা’ আনা বাদী পক্ষ প্রকল্পের চারপাশে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছে। 

সরকারি জমি ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে আয় করছেন বছরে কোটি কোটি টাকা। স্থিতাবস্থা ও দখলে পিছিয়ে পড়ছে সরকারি পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জলাশয়ের আদলে থাকা মাঠের চতুর্পাশে নানা ধরনের দোকানপাট উঠেছে। জমির পশ্চিম পাশে গাড়ির কাউন্টার, শুঁটকি ও আচারের দোকান, খাবার বিক্রির স্টল, দক্ষিণে মিনি হোটেল, বিভিন্ন ট্যুরিজম অফিস, উত্তরে একাধিক খাবার হোটেলসহ নানা ধরনের দোকানপাট খোলা হয়েছে। আদালতে মামলাকারীর পাশাপাশি একজন বিএনপি নেত্রী ও নারী কাউন্সিলর, সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনের জেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের কয়েক জন নেতা এবং ক্ষমতা খাটানো ব্যক্তিরা যে যার মতো দখল নিয়ে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভাড়াটিয়ারা।

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর মতে, স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে মামলার বাদী জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নানা সময়ে একাধিক জিডি করা হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। আমরা মূল বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। 

স্থিতাবস্থায় জমি জবরদখল সম্পর্কে মামলার বাদী মৃত অছিয়র রহমানের ছেলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের জমিতে আমরা উন্নয়নকাজ করি। উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা দেওয়া ‘অবস্থানে’ নয়। আমি মামলা করে আমার অংশ দখলে রেখেছি, অন্য অংশগুলো ক্ষমতাশালীরা দখল করছেন। তাদের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, আগেও জবরদখল কালে গণপূর্ত বিভাগের আহ্বানে অভিযান চালিয়েছিল কউক। সামনের দিনেও আইনি প্রক্রিয়ায় জবরদখল উচ্ছেদে কউক মাঠে থাকবে।