নারায়ণগঞ্জে শহরজুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড, যানজটে দুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জে প্রধান সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড। এর নেপথ্যে কাজ করছে কিছু স্বার্থান্বেষী ট্রাফিক পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অবৈধভাবে জেলা শহরের নিতাইগঞ্জের মোড়ে ও ২ নম্বর রেলগেটে অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড, ডায়মন্ড হলের সামনে ইজিবাইক স্ট্যান্ড, ফজর আলী ট্রেড সেন্টারের সামনে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড, ডিআইটি গুলশান হলের সামনে অটোরিকশার স্ট্যান্ড, মর্গ্যান স্কুলের সামনে ও গলাচিপা মোড়ে অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড, ১ নম্বর রেলগেটে বাস ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড, কালীরবাজারে ইজিবাইক ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, চাষাঢ়া সোনালী ব্যাংকের সামনে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, খাঁজা মার্কেটের পেছনে লেগুনা স্ট্যান্ড, চাষাঢ়া চত্বর সুগন্ধা বেকারির সামনে লেগুনা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, শহিদ মিনারের সামনে ও তার পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। 

রাইফেলস ক্লাবের সামনে লেগুনা, অটোরিকশা ও ইজিবাইক স্ট্যান্ড, সরকারি মহিলা কলেজের সামনে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, চাষাঢ়া রেলস্টেশনের সামনে ও শিমরাইল মোড়ে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, খানপুর মেট্রো হলের সামনে বাস ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড দীর্ঘদিন। ফলে অবৈধ এসব স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে বেড়েই চলেছে অবৈধ যান অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। এতে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। সেই সঙ্গে শহরে বেড়েছে যানজট। অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোতে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে কাজ করছে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও নামধারী সাংবাদিক। তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলছে। এই চাঁদার টাকায় তাদের অনেকেই বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষিদ্ধ এসব যান বন্ধ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে না। পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কয়েক দিন প্রশাসন সাময়িক সময়ের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও দুই-তিন দিন পর আবার পুরাতন অবস্হায় ফিরে আসে।

অন্যদিকে এই সুযোগে দিন দিন এসব অবৈধ যানের সংখ্যা বেড়েই চলছে শহরে। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি আর চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট। সঙ্গে পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলা তো আছেই। একটি সূত্র জানায়, এই সব অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে প্রতিটি অটোরিকশার জন্য মাসিক দিতে হয় ১ হাজার ৫০০-২ হাজার ৫০০ টাকা। চাষাড়ামুখী আসা গাড়ি দুই বেলা করে সকাল ৮টায় দিতে হয় ৫০ টাকা ও দুপুর ১২টায় দিতে হয় ৫০ টাকা। দিনে মোট ১০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। 

অন্যদিকে, চাষাড়া, রাইফেলস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ, মেট্রো হল, মর্গ্যান স্কুল, নিতাইগঞ্জ, ২ নম্বর রেলগেট ও ফলপট্টিতেও আলাদা আলাদা করে সকাল ৮টায় ও দুপুর ১২টায় ২০ টাকা করে মোট ৪০ টাকা দিতে হয় পুলিশ সদস্যকে এবং এই অটোরিকশাগুলোকে আবার শহরে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন রেকার কর্মকর্তাকে মাসিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। এসব অবৈধ স্ট্যান্ডের গাড়িচালকরা বলছেন, ‘আমাদের প্রতি মাসে এখানে পুলিশকে মাসিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে গাড়ি রাখতে হয়। যে মাসিক টাকা না দেয় তাদেরই পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং জরিমানা করে।

এ ছাড়াও আমাদের প্রতিদিন দুই বেলা মিলে কেউ দেন ৪০ টাকা কেউ দেন ১০০ টাকা। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই এ কে করিম বলেন, আমরা যানজট নির্মূল করতে পারব না চেষ্টা করছি যানজট নিয়ন্ত্রণে। আমরা সেটাই করছি। বিভিন্ন অবৈধ স্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা টাকা তুলছেন—এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।