কীসের পানে ছুটছি মোরা?

মানবজীবন সমুদ্রের অতল জলের মতো, যার কোনো কূল-কিনারা নাই; তবে আছে শান্ত সমুদ্রের মতো স্নিগ্ধতা কিংবা উত্তাল সমুদ্রের মতো ঝড়ঝঞ্ঝা। নানাবিধ সমস্যা কিংবা সম্ভাবনায় পরিপূর্ণ মানব জীবন। তবে বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে বিষণ্নতা কিংবা দুঃখবোধ। আর এই বিষণ্নতা কিংবা দুঃখবোধের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের ছুটে চলা প্রতিনিয়ত। আমরা ছুটছি সুখের পানে। ছোটাছুটি করে কেউ বা হারিয়ে যাচ্ছি কালের অতল সমুদ্রে কিংবা কিঞ্চিৎ পাচ্ছি সুখের নাগাল; তবে সেটা খুবই ক্ষণস্হায়ী।

এই যে প্রতিদিন আমরা সুখের পানে ছুটে চলেছি নিরন্তর, কখনো কি ভেবে দেখেছি কীসের তরে ছুটছি আমরা কিংবা কেনইবা ছুটছি। সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। এটি এমন একটি ব্যাপার, যা শুধু অনুভব করা যায়, ধরা-ছোঁয়া যায় না। আমরা মনুষ্যজাতি একটু সুখের জন্যে প্রতিদিন কতইনা কত কিছু করছি; কিন্তু সত্যিকারের সুখের সন্ধান খুব কম মানুষই পাচ্ছি।

আসলে বর্তমান পৃথিবীর সমাজব্যবস্হা আমাদেরকে এমন একটি ব্যবস্হার মধ্যে নিয়ে এসেছে, যেখানে সবকিছু কৃত্রিমতায় ভরপুর। যেখানে আমরা সত্যিকারের সুখের বদলে কৃত্রিম সুখের পেছনে ছুটছি প্রতিদিন। আমাদের সমাজব্যবস্হা সুখের সংজ্ঞাকে পালটে দিয়েছে। আমাদের সমাজব্যবস্হ শেখায় টাকা-ই সব কিছু।

তবে এত কিছুর মধ্যে আমরা ভুলতে বসেছি, কৃত্রিমতায় কখনো সত্যিকারের সুখ-শান্িত ও সমৃদ্ধি আসে না। উদাহরণস্বরূপ আমরা প্রায় সবাই সচরাচর রেস্টুরেন্টে গিয়ে নানা ধরনের খাবার খেয়ে মনে সুখ-শান্িত ফিরিয়ে আনতে চাই। তবে এখানে কিন্তু সবকিছু কৃত্রিমতায় ভরপুর। একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, নানা ধরনের রং-বেরঙের বাতি, ওয়াল পেইন্টিং কিংবা বিলাসী সব জিনিসপত্র। ওখানে গিয়ে আপনি হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য ভালো বোধ করবেন, তবে মনে যে সত্যিকারের প্রশান্িত বোধ, সেটি কখনোই খুঁজে পাবেন না। যেটার প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আমরা যদি প্রকৃতির দিকে ফিরে যাই, কৃত্রিমতাকে বর্জন করি, তাহলেই বুঝতে পারব সত্যিকারের প্রশান্িত আসলে কোথায়। আপনি হয়তো এই সময়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন কিংবা কোনো সুবিশাল মাঠের মধ্যে ধানখেতের আঁইল দিয়ে হাঁটছেন। আপনার চোখ যতদূর যায়, ধানখেত কিংবা গাছগাছালি সব জায়গায় শুধু সবুজে ভরপুর। এই সবুজের দিকে তাকালে মনে যে আত্মিক প্রশান্িত আসে, সেটি আসলে কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই আত্মিক প্রশান্িত স্হায়ী যেটা আপনাকে সত্যিকারের সুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। আপনি প্রকৃতির ঐশ্বর্যকে অনুভব করবেন, হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির স্নিগ্ধতায়। নিজেকে আবিষ্কার করবেন নতুনরূপে।

সত্যি বলতে প্রকৃতি আমাদের তার নিজস্ব পদ্ধতিতে জীবনধারণের প্রাচুর্যতা দিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু আমরা অকৃতজ্ঞের মতো প্রকৃতির এই দান গ্রহণ না করে মরীচিকার মতো কৃত্রিমতার দিকে ছুটে চলেছি নিরন্তর। যে কৃত্রিমতা আসলে আমাদের কখনোই সত্যিকারের সুখ-শান্িত সমৃদ্ধি এনে দিতে পারবে না। তাই আসুন, কৃত্রিমতার দিকে না ছুটে প্রকৃতিকে ভালোবেসে প্রকৃতির কোলে প্রকৃতির মতো করে বড় হই; জীবনকে ভরে তুলি সুখ-সমৃদ্ধিতে। জ্বলে উঠি আপন মহিমায়।

 লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়