জন্মগতভাবেই চোখে সমস্যা নিয়ে বেড়ে ওঠেছেন ইয়াসিন। পড়ালেখা শুরুর পূর্ব থেকেই পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে রঙিন পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখা থেকে বঞ্চিত হন এই অদম্য তরুণ। কিন্তু নিজের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ইয়াসিন বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
ইয়াসিনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলায়। ছোটবেলায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা যান। চোখে আলো না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর বড় হওয়ার স্বপ্ন আটকে রাখতে পারেনি ইয়াসিনকে। বড়বোনের হাত ধরে নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
চার ভাই-বোনের মধ্যে ইয়াসিন তৃতীয়। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই আলো ছড়িয়ে গেছেন এই অদম্য মেধাবী তরুণ। ২০১০ সালে যখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখন আবৃত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ গ্রহণ করেন। সেই থেকে কবিতা লেখা এবং আবৃত্তির প্রতি আরও বেশি আগ্রহ জন্মায় তার মনে।
ইয়াসিন জানান, তার ‘নীলপদ্ম’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, এতে তিনি বিভিন্ন ধরনের কবিতা আবৃত্তির পর আপলোড করেন এবং ব্যাপক সাড়া পান। পড়ালেখা করতে গিয়ে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। এসএসসি পর্যন্ত ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়ালেখা করলেও পরবর্তীকালে ব্রেইল পদ্ধতি না থাকায় অনেকটা সংগ্রাম করেই পড়ালেখা চালাতে হয়েছে তাকে।
ইয়াসিন জানান, এক্ষেত্রে সবাই তাকে সহযোগিতা করেছে। স্কুল-কলেজে অধ্যয়নকালে বন্ধুরা যেমন সহযোগিতা করেছে, তেমনি শিক্ষকরাও এগিয়ে এসেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সহযোগিতা পাচ্ছেন। পড়ালেখা, হাঁটাচলা, খাওয়া-দাওয়া এবং আড্ডাসহ সবধরনের কাজেই তার বিভাগের সবাই তাকে সহযোগিতা করছে।
ইয়াসিনের সহপাঠী জিগার ইবনে কাদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমরা ইয়াসিনকে নিজেদের মতো করে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছি। তাকে সহযোগিতা করে আমরা আনন্দ খুঁজে পাই।’ চোখে আলো না থাকলেও স্বপ্ন দেখা থেমে থাকেনি ইয়াসিনের। ইয়াসিনের শখের মধ্যে আছে কবিতা লেখা এবং আবৃত্তি করা। বড় হয়ে ইয়াসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হতে চান।