১৯টি কবরে ২৩টি মরদেহ, পরিচয় হিসেবে লেখা আছে শুধু থানার সাধারণ ডায়েরি নম্বর। গত ২৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ দুর্ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনও শনাক্ত করা যায়নি বরগুনায় অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা এ মরদেহ।
বরগুনার পোটকাখালী গণকবরে দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ২৩ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে। এছাড়া পরে নদী থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাত আরও একটি মরদেহ ঝালকাঠিতে দাফন করা হয়।
এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকা থেকে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করতে আসে। এ সময় নিখোঁজ ২৪ জনের জন্য ৩৫ স্বজন ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা দেন।
তবে দুইমাস অতিবাহিত হলেও এখনও ফল প্রকাশ হয়নি। প্রতিনিয়ত গণকবরে স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে আসেন নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা। দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের মরদেহ স্বজনরা এক প্রকার সান্ত্বনা হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলেও এখনও ডিএনএ টেস্টের ফল না পাওয়ায় সেই সান্ত্বনা থেকেও বঞ্চিত স্বজনহারা ব্যক্তিরা।
এমনকি নিখোঁজরা শনাক্ত না হওয়ায় কোন সহায়তা পায়নি তাদের পরিবার। এতে একমাত্র উপার্জনক্ষম নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তাই অনেকটা অনাহারেই দিন কাটছে এসব পরিবারের সদস্যদের। মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় নিখোঁজদের পরিবারকে সহায়তা করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন।
গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৮পরিবারকে দেড় লক্ষ টাকা নগদ সহায়তা করেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, আমরা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি, যাতে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। ফল আসলে এর পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সিআইডি ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার বলেন, ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণের কাজ চলমান আছে, আশা করছি অতি তাড়াতাড়ি আমরা ডিএনএ-এর ফল দিয়ে দিতে সক্ষম হবো।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ দুর্ঘটনার ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। এতে ৪৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।