কথায় বলে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়! শরীফুল আলম-জুলিয়া পারভিন দম্পতি সেটিই যেনো প্রমাণ করে দেখালেন আরও একবার। কেনিয়ায় বসবাস, দুইজনই জড়িত অটোমোবাইল ব্যবসায়। কোভিডের অতিমারিতে পৃথিবী থমকে গেলে মাথা খোলে জুলিয়ার। ইচ্ছে জাগে ট্র্যাকিংয়ের।
প্রিয়তমা স্ত্রীর ইচ্ছেটা শুনে শরীফুল ভাবলেন কতক্ষণ। স্ত্রী চেয়েছিল মাউন্ট কেনিয়া জয় করতে। শরীফুল তাতে বাগড়া দিলেন। মাউন্ট কেনিয়া নয়, জয় করবেন মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো! আফ্রিকার সবচেয়ে বড়ো পর্বত জয়ের কথা শুনে চুপসে যাবেন জুলিয়া, এমনটিই ছিল শরীফুলের ভাবনা। সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না!
কিন্তু, তাকে অবাক করে রাজি হলেন জুলিয়া। শরীফুলের বয়স ৪৬, জুলিয়ার ৪০। কেউই এমনকি স্পোর্টস পার্সন নন! তবে উপায়? ওই যে, ইচ্ছে থাকলে উপায় আসে! বয়সের বাঁধা ঠেলে তারা শুরু করলেন প্রস্তুতি। রোজ দশ কিলোমিটার হাঁটা, সপ্তাহান্তে কাঁধে ভারী ব্যাকপ্যাক নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার হাঁটার পাশাপাশি বাড়ির ১৪ তলায় সিঁড়ি ভেঙে দু'বার করে ওঠানামা, রাতে তাঁবু খাটিয়ে বাইরে থাকা।
স্ত্রীর প্রবল জেদ আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কয়েক মাসের পরিশ্রমে শরীফুলের বিশ্বাস তৈরি হয়, তারা পারবেন। আট মাসের প্রস্তুতি শেষে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই শুরু হয় তাদের রোমহর্ষক যাত্রা। প্রথম বাংলাদেশি দম্পতি হিসেবে কিলিমাঞ্জারো জয় করতে দুইজন সময় নেন সাড়ে ছয়দিন। জুলিয়া বলেন, "একটা সময় পর আমার কষ্ট হচ্ছিলো। না পারছিলাম সইতে, না পারছিলাম বলতে। কারণ, আইডিয়া তো আমারই।"
এই সময়টায় একে অপরকে চিনেছেন আরও ভালো করে! উভয়েরই ভাষ্য, "কাজ শেষে আমরা মোবাইলেই বুঁদ হয়ে থাকি। নিজেদের সময় দেওয়া হয় না। ট্র্যাকিংয়ের এই সময়টায় পরস্পরকে আগের চেয়ে ভালোভাবে চিনেছি, জেনেছি।"
ভালোবাসা কী না করতে পারে! সাথে যদি থাকে ভালোবাসার মানুষ, যদি থাকে মজবুত বন্ধন, দুর্গম পাড়ি দেওয়া যায় হাসতে হাসতে। শরীফুল-জুলিয়া দম্পতির কিলিমাঞ্জারো বিজয় ভালোবাসার নিদর্শন হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে।