ডাকাতির কবলে সপরিবারে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক

সপরিবারে ছুটি কাটাতে কক্সবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব আলম। তিনি সপরিবারে উত্তরায় থাকেন। সেখান থেকে নিজ গাড়িতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গাড়িটি তিনি চালাচ্ছিলেন। 

গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁওয়ের মোগড়া বাসস্ট্যান্ডের ২-৩ কিলোমিটার আগে মহাসড়কে রাত পৌনে ৪ টার দিকে হঠাৎ একাধিক গাছের মোটা ডাল ছুঁড়ে মারে। ১০-১২ টি ডাল রাস্তায় পড়ে ব্যারিকেডের সৃষ্টি হয়। গাড়িটি থামার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে ১০-১১ জন যুবক ঘিরে ধরে। তাদের ৪-৫ জনের হাতে চকচকে চাপাতি শোভা পাচ্ছিল। 

হঠাৎ এ ধরনের আক্রমণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। পেছনের সিটে বসে থাকা তার তিনটি কন্যা সন্তান একে অপরকে জড়িয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। বাহির থেকে অস্ত্রধারীরা গাড়ির গ্লাস খোলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি গ্লাস খুলতে রাজি হননি। মুহূর্তের মধ্যে প্রথম সিটের বামপাশের দরজার জানালায় চাপাতি দিয়ে এক কোপ বসিয়ে দেয় এক দুর্বৃত্ত। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, যা আছে দিয়া দে, নাইলে ঘাড় থেকে মাথা নাইম্যা দিমু। 

অধ্যাপকের স্ত্রী ও সন্তানরা কাঁদতে থাকেন। এ অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত তার স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। তারা ভ্যানিটি ব্যাগ, মানিব্যাগ, তিনটি মোবাইল ফোনসেট ও বাচ্চাদের ছোট তিনটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। 

অধ্যাপক মাহবুব আলম বলেন, ভ্যানিটি ব্যাগ ও মানিব্যাগ মিলে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া ডেভিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র মানিব্যাগে ছিল। সবচেয়ে কথা, ওই মুহূর্তের ধারালো অস্ত্রের মহড়ায় আমরা তিন সন্তান অনেকটা ট্রমাটাইজড অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। আমি তাদেরকে স্বাভাবিক করতে পারছি না। ডাকাতের কবলে পড়ার পর গাড়িটি চালিয়ে মোগড়া বাসস্ট্যান্ড পার হয়ে হাইওয়ে পুলিশকে পেয়ে আমি বিষয়টি তাদের কাছে মৌখিকভাবে জানাই। পরে আমি সেখান থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অমৃত সূত্রধর বলেন, ডাকাতির কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে জানান।