রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ জরুরি

বরাবরের মতো এবারও রোজার শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর খুচরা বাজারে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আগের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন এমনিতেই চরম সংকটে। এ অবস্হায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের জীবনধারণ দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

মূলত অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জন্যই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধি এবং পণ্যের জোগান সীমাবদ্ধ হওয়ার ফলে বাজারে ক্রেতার বৃদ্ধি ঘটছে। এতে বাড়ছে পণ্য সংগ্রহের প্রতিযোগিতা, ফলে মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে দিন দিন যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হারে উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বাড়তি জনসংখ্যার ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও উত্পাদন ঘাটতির কারণে জোগান অপ্রতুল। যাতে চাহিদা ও জোগানের মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে না চাষাবাদের জমি ও কৃষিশিল্পের কাঁচামাল। যার ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্হার সৃষ্টি হচ্ছে। কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিতে মজুতদার, চোরাচালানি, অসাধু ব্যবসায়ীদের ভূমিকা মোক্ষম। অবাধে জমি ভরাট ও কৃষকদের ন্যাঘ্য মূল্য না দেওয়ার ফলে অনেকেই কৃষিকাজ থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছেন। যার ফলে চাহিদা ও জোগানের সমন্বয়ে ব্যাঘাত ঘটছে।

কালো টাকার প্রভাবে সমাজের একশ্রেণির লোকের পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দ্রব্যমূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে পণ্য বণ্টনব্যবস্হার ত্রুটির ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রত্যক্ষ কর বা ভ্যাটের জন্যও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ লোক মধ্যম থেকে নিম্ন আয়ের। পণ্যের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তাদের ওপর। অধিক দামে পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা দেশের অধিক মানুষেরই নেই। যার ফলে বাধ্য হয়ে কমাতে হচ্ছে তাদের দৈনন্দিন বাজার খরচ। বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে গেলে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে কমে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি অর্থের জোগান দিতে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন, যার ফলে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

তাই দাম বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতা যত দ্রুত সম্ভব রোধ করা প্রয়োজন। এজন্য দেশের কালোবাজারি, চোরাচালানি রোধ করতে হবে সবার আগে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হতে হবে আরো কঠোর ও দায়িত্বশীল। গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষকদের ঋণদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন করতে হবে, যাতে তারা সহজে পণ্য বাজারজাত করতে পারে এবং ন্যাঘ্য মূল্যে উত্পাদিত পণ্য বিক্রয় করতে পারে। শুধু সরকার নয়, সাধারণ মানুষকেও দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অসত্ ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। বস্ত্তত সরকার, জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতায় পবিত্র এই রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা