টংগিবাড়িতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ ও পাঙ্গাশের পোনা

টংগিবাড়িতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ ও পাঙ্গাশের পোনা। অধিকাংশ হাট-বাজারে এই মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে দাবি সচেতন মহলের। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জাটকা আহরণ, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ করা নিষিদ্ধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না। 

সরেজমিনে হাসাইল মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বেশির ভাগ আড়তেই বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ ও পাঙ্গাশের পোনা। ছোট জাটকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৩০ টাকা আর পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে। 

সূত্র জানিয়েছেন, চাঁদপুরের মেঘনা, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের পদ্মা নদী থেকে  প্রতিনিয়ত জেলেরা এই মাছ গুলো ধরে হাসাইল ও দিঘিরপাড়ের আড়ৎ ও হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। তাছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রলার দিয়ে  প্রতিনিয়ত বড় ইলিশের পাশাপাশি জাটকা নিয়ে আসছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার হাসাইল, কামারখাড়া পাচগাও, বালিগাও, আলদি বাজারসহ বিভিন্ন ছোট-বড় হাট-বাজারে জাটকা ও পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার গ্রামে গিয়ে ফেরি করে এই মাছগুলো বিক্রি করছেন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, মাছ শিকার ছাড়া বিকল্প কোনো কাজ না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই জাটকা শিকার করতে হয়।  

হাসাইল আড়তের এক জাটকা ক্রেতা জানান, বড় ইলিশ মাছের দাম বেশি তাই কমদামে জাটকা ইলিশ কিনেছি। নিয়মিতই এই বাজারে জাটকা পাওয়া যায়। উপার্জন কম তাই জাটকা কিনছি। প্রশাসন যদি জাটকা ধরা বন্ধ করে দিতে পারে তাহলে বিক্রিও বন্ধ হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসাম্মত নিগার সুলতানা জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের জাটকা বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা যখন আরতগুলোতে অভিযান পরিচালনা করি তখন জাটকা বা পাঙ্গাশের পোনার দেখা মিলেনা। এ সময় তিনি আরো বলেন, প্রশাসন কে যদি জনগণ সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের আইনের আওয়তায় আনতে সক্ষম হবো।