হাওরে হাওরে চলছে বাঁধ রক্ষার লড়াই

নদীভর্তি পানি হাওররক্ষা বাঁধ ভেঙে অথবা টপকে হাওরের সবুজ ফসল গ্রাস করতে চায়। শত শত মানুষ বালু ও মাটির বস্তা ফেলে বাঁশ দিয়ে সেই পানি আটকে দেওয়ার প্রণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জের প্রতিটি হাওরে এখন এমন দৃশ্য। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে সাড়ে ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য ঘরে তুলতে মরিয়া এখন ভাটির মানুষ।

তবে সীমান্তের ওপারে মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি ও ঢল বন্ধ হওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওর পরিস্হিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হাওররক্ষা বাঁধের ওপর পানির চাপ কমেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আশা করা হচ্ছে, চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে বৃষ্টি না হলে এবং ঢল না নামলে পরিস্হিতির আরো উন্নতি হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে প্রকৃতির ওপর।

হাওর উন্নয়ন সংস্হার সভাপতি কাশমির রেজা টাংনির হাওর থেকে জানান, সেখানের বাঁধের নিচ দিয়ে চুইয়ে পানি হাওরে প্রবেশ করছে। কৃষক-জনতা বাঁধটি রক্ষায় পাইলিং করে মাটি ভরাট করছে। এরকম চিত্র বিশ্বম্ভরপুরের শনির হাওরসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওরে। এক কথায়, হাওরে চলছে এখন বাঁধ রক্ষার যুদ্ধ। ১৫ দিন চেষ্টা জোরালো থাকলে অনেক হাওর বেঁচে যাবে। ধান কাটা যাবে।

এবারের ঢলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তাহিরপুর, ধর্মাপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন স্হানে বাঁধ টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দিন-রাত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করছে। 

বুধবার ধর্মপাশা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ চন্দ্র, সোনার থালসহ কয়েকটি হাওর পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এমপি বলেছেন, হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় স্হায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হবে। বাঁধ ভাঙার ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তালিকাভুক্ত করে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

এর আগে সুনামগঞ্জের পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীতে অত্যধিক পানির চাপ বাড়ায় কয়েকটি বাঁধ ভেঙে ফসলহানি ঘটে। অনেক স্হানে মাটি ধসে বাঁধ ভাঙার উপক্রম হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলাকাবাসী, পিআইসি ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বাঁধ রক্ষায় দিন-রাত কাজ চলে। কর্মকর্তরা জানান, বাঁধ রক্ষার কাজ অব্যাহত থাকবে। সরকারি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৫৫০ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। চাষ হওয়া জমি থেকে ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকার ইরি-বোরো ধান উত্পাদন হওয়ার কথা।