দক্ষিণ আফ্রিকার পেস-বাউন্সি কন্ডিশন বিবেচনায় বগুড়ায় ক্যাম্প করেছেন টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা। কেপটাউনে গ্যারি কার্স্টেনের একাডেমিতেও প্রায় দুই সপ্তাহ অনুশীলন করেছে টেস্ট দল। বাংলাদেশকে চমকে দিয়ে অতিথিদের জন্য স্পিনিং উইকেট বানিয়ে টেস্ট সিরিজ খেললো দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওয়ানডে সিরিজ জেতা টাইগাররা লাল বলের ক্রিকেটে হাবুডুবু খেল প্রোটিয়া স্পিনারদের তোপে। দুই ইনিংসে ৫৩, ৮০ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাও সঙ্গী হলো। মুমিনুল-মুশফিকদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট জয়ের আশা তিমিরে হারাল।
ডারবানে প্রথম টেস্ট হারের পরই টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত সমালোচনার খোরাক হয়েছিল। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই জানিয়েছেন, সিনিয়রদের চাপে বোলিং নিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল। সমালোচনার শূলে চড়লেন তামিম-মুশফিকরা। দ্বিতীয় টেস্টে আরো ভঙ্গুর দলের পারফরম্যান্স। বিদেশের মাটিতে হলেও টানা দুই টেস্টে হতশ্রী ব্যাটিং দর্শকদের আহত করেছে।
চিরচেনা স্পিন খেলতে না পারা, কেন এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স? গতকাল বিসিবির পরিচালক আকরাম খান বলছেন, দোষারোপের সংস্কৃতি প্রভাব ফেলছে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে। আইসিসি ট্রফিজয়ী সাবেক এই অধিনায়কের মতে, বাইরে থেকে সিরিজ চলাকালীন মন্তব্য ক্রিকেটারদের চাপে ফেলে দিচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্টে এমন ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে গতকাল আকরাম খান বলেছেন, ‘কারণ অনেক চাপ। অনেক ধরনের আলাপ-আলোচনা হয় একটা ম্যাচ হেরে গেলে, এক জন আরেক জনকে দোষ দেয়। এই রেওয়াজটা কিন্তু বাংলাদেশ ছাড়া আর অন্য কোথাও নেই, এই সিস্টেমটা নাই। দেখবেন খেলার বাইরে আমরা বেশি চিন্তা করি, বেশি কথা বলি।’
প্রথম টেস্ট হারের পর নেতিবাচক আলোচনা দলকে প্রভাবিত করেছে মনে করেন আকরাম। বিসিবির ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘একটা ম্যাচ হারতেই পারেন। প্রথম টেস্ট হারার পর দল নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা বলা হয়েছে, শুনতে হয়েছে। এগুলো কিন্তু পরেরটাতে প্রভাব ফেলেছে। ব্যাটসম্যানরা কিন্তু সবাই জানে কী জিনিস করতে হবে, কী জিনিস করতে হবে না। কিন্তু ওখানে গিয়ে যেটা করার না, সেটা করছে। কারণ চাপ, পুরো চাপে পড়ে গিয়েছিল ক্রিকেটাররা। এ জিনিস থেকে আমাদের বের হতে হবে।’
টেস্টে ব্যাটসম্যানরাই ডুবিয়েছেন দলকে। দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েও মাহমুদুল হাসান জয় সর্বোচ্চ ১৪১ রান করেছেন এই সিরিজে। অধিনায়ক মুমিনুল ১৩, শান্ত ১০৪, লিটন ৮১, ইয়াসির ৭৩, মিরাজ ৬০, মুশফিক ৫৯, তামিম ৬০ রান (২ ইনিংস) করেছেন।
আকরামের পরামর্শ, পেস বা স্পিনিং তথা দুই ধরনের উইকেটেই খেলার প্রস্তুতি নিতে হবে টাইগারদের। ওয়ানডের মতো দলগত পারফরম্যান্সেই টেস্টে উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু এক জন দুই জনের ওপর নির্ভর করি না। সবাই মিলে ভালো, বোলিং, ফিল্ডিং করলে আমরা ফলটা পাই। একই জিনিস আমাদেরকে টেস্টেও করতে হবে।’