ভোলার লালমোহন উপজেলার ৯ নম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, জনসাধারণের জোরপূর্বক জমি দখল, ফসলি জমির মাটি কেটে নিজ ইটভাটায় সরবরাহ করছেন তিনি। এসব কাজের বিরোধিতা করলে তার কল্লাকাটা বাহিনী এসে হামলা চালায় বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সুবিধাভোগী আবুল কাশেম একসময় জামায়াতে ইসলাম রাজনীতি করতেন। পরে দল পরিবর্তন বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এখন লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
তিনি তিনবার ইউপি মেম্বর ও দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আবুল কাশেমের ‘বিভিন্ন অপকর্মের’ বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে নাজেহাল করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ সাধারণ মানুষসহ তার কাছে গণমাধ্যমকর্মীরাও নিরাপদ নন।
আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ২০১৬ সালে সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে মারধরের শিকার হতে হয়েছে যমুনা টেলিভিশনের ভোলা ও লালমোহন প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদকে।
ফরিদ আহমেদ ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘যমুনা টেলিভিশনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গেলে আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী গ্রুপের (কল্লাকাটা বহিনী) কাছে মারধরের শিকার হই। তার বিরুদ্ধে টু শব্দ করার মতো এলাকায় কেউ নেই। যে প্রতিবাদ করে তার জীবনে চলে আসে দুর্ভোগ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৯ নম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক বাসিন্দা ইত্তেফাক অনলাইন বলেন, ‘কাশেম চেয়ারম্যান অনেক ক্ষমতাবান লোক। তার নিজস্ব কল্লাকাটা নামে সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাশেম চেয়ারম্যানের জমি দখল প্রধান টার্গেট হলেও এলাকার রাজনীতি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়, বল্যবিয়েতে সহায়তা, নারী নির্যতন ও সরকারি গাছ কেটে অন্যত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
ফামেতাবাদের বাসিন্দা মো. আব্দুল আলী সিকদার ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘কাশেম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমিসহ সাধারণ মানুষরা জিম্মি। সে একজন মহা দুর্নীতিবাজ। কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের মারধর করা হয় এবং তার লোকজন দিয়ে আমাদের নামে মামলা করা হয়। আমার নিজের নামেই ২৫টি মামলা চলমান, এমনকি আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে রেখেছেন তিনি। এবার আপনারাই বলেন তার বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ বা মুখ খুলবে।’
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন জমি থেকে অবৈধভাবে ভ্যাকুর মাধমে মাটি উত্তেলন বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ ইত্তেফাক অনলাইকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন করলে এবং তা প্রমাণিত হলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
ভোলা লালমোহন উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার জাহিদুল ইসলামকে ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে লালমোহন উপজেলা ভূমি অফিসে ওই পদে নেই, সুতরাং আমি কিছু জানি না। আপনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পল্লব কুমার হাজরা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের কোন কাজ করলে আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ভোলার লালমোহন উপজেলার ৯ নম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আমি সরকারি বা কারও জমি দখল করিনি। আমি আমার কেনা জমিতে মাটি তুলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ষড়যন্ত্র করছেন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মাঠে নেমেছে। তারা একবার আমাকে ভূমিদস্যু বানায়, আরেকবার বানায় কল্লাকাটা বাহিনীর প্রধান।’
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম হাওলাদার ইত্তেফাক অনলাইন বলেন, ‘কাশেম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বিষয়ে আমি অবগত না। সরকারি-বেসরকারি জমি দখল ও মাটি উত্তেলনের অভিযোগ বিষয়টি মিথ্যা। মানুষকে জিম্মি করে মামলা-হামলা যদি হয়ে তাকে তাহলে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। একটি মহল ও সাংবাদিকদের একটি অংশ তার পেছনে লেগেছে ।’