আনোয়ারায় নতুন আতঙ্ক কিশোর গ্যাং

উপজেলায় কিশোর গ্যাং নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক সময় নগরকেন্দ্রিক এ সমস্যা থাকলেও এখন কম উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে তাদের অপরাধ। কথিত রাজনৈতিক বড় ভাই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দিনকে দিন তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলের মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়ার সুবাদে তথাকথিত বড় ভাইদের আনুকূল্য পাচ্ছে এরা। তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরেও জড়িয়ে পড়ছে সহিংসতায়। তাদের হাতে রয়েছে চাপাতি, রামদা, ছুরি, হকিস্টিক ও অস্ত্র। এসব গ্যাং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, যৌন হয়রানি, মাদক সেবন ও বেচাকেনা থেকে শুরু করে খুনাখুনিসহ ভয়ংকর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা হয়ে উঠছে ভয়ংকর অপরাধী। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি চাতরী চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় র‌্যাবের ওপর হামলা করে মাদকের সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী আশরাফ। একই দিন বিকালে চাতরী এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বড় উঠান হযরত ওমর ফারুক (রা.) মসজিদের দান বাক্সের টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন মসজিদের ইমাম। সন্ধ্যার পর এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ইমামসহ কয়েকজন মুসল্লিকে মারধর করে।

একই বছরের ২ মার্চ উত্তর চাতরী এলাকা থেকে এক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করে র‌্যাব। একই বছরের ২ অক্টোবর আবদুল্লাহ আল মাসুম (১৮) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীকালে জানা যায়, ব্যক্তিগত কোন্দলের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে নিহত হয় সে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গের ছত্রছায়ায় উপজেলা জুড়ে চলছে মদ ও মাদক সাপ্লাই, তাদের তত্ত্বাবধানে চালিত হচ্ছে জুয়ার আসর।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, কিশোর গ্যাং তৎপরতা বন্ধের সর্বাত্মক চেষ্টায় আছে পুলিশ। শিগ্গিরই তাদের তালিকা প্রণয়নসহ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

সহকারী এসপি হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েক জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আমরা তালিকা করেছি। শোলকাটা মেডিক্যাল মোড়ে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে স্কুল তৈরি করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে এখনো পর্যন্ত উপজেলা জুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি করা হয়নি।