বৌদ্ধবিহারে সম্প্রীতির অনন্য ইফতার

খেজুর, ছোলা, পেয়াজু, বেগুনি সবই আছে। রোজাদারদের জন্য টেবিলে সাজানো রয়েছে ইফতারের রকমারি আইটেম। আর ইফতারের অপেক্ষায় রাস্তায় সারিবদ্ধ শতাধিক মানুষ। ইফতারি নিতে আসা বেশির ভাগই দিনমজুর বয়স্ক নারী ও পুরুষ। মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র রমজানে প্রতিদিন এমন অনন্য ইফতার আয়োজন করে রাজধানীর বাসাবোর বৌদ্ধবিহার। 

অনেকের মতো প্রতিদিন বৌদ্ধবিহার থেকে ইফতার সংগ্রহ করেন দিনমজুর আব্দুল খলিল মিয়া। তিনি বলেন, 'রাস্তায় থাকি খোদার দুনিয়ায় যা খেতে পাই তাই খাইয়াই বাঁচি '। বৌদ্ধ বিহারের মানুষ বিনা টাকায় ইফতার করাইতেছে। সেইটা কয়েকজন করাই । এরা যেই ধর্মেরই হোক, ওগোর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’

মানুষের বাসায় কাজ করেন দক্ষিগাঁ বটতলার হালিমা  বেগম। তিনি বলেন, 'বৌদ্ধবিহারে ভালো ইফতারি দেয়। এখান থেকে ইফতারি পাই  ঘরের সবাইরে নিয়া খাইতে পারি।’ 

বিকেলে পাঁচটা পর বাসাবো বৌদ্ধবিহারের এই ইফতার আয়োজনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বৌদ্ধবিহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন ২০০ জন মানুষকে ইফতারি দেওয়া হয়। 

বৌদ্ধবিহারটি ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনাথ ও দুঃস্থ শিশুরা এখানে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।  'ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাওয়া য়ায়' স্লোগানে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে বৌদ্ধ মহাবিহারের প্রয়াত প্রধান শুদ্ধানন্দ মহাথেরো মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার কার্যক্রম শুরু করেন।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রিয় বড়ুয়া জানান, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা এক মাস রোজা থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ভালো মানের ইফতারি পান না। তাঁদের ইফতার নিশ্চিত করার চেষ্টা করে বৌদ্ধ মহাবিহার। এতে মানুষ যদি উপকৃত হয়, তাহলে আমাদের প্রচেষ্টা স্বার্থকতা পাবে।'