নাঙ্গলকোটে ডাকাতিয়া নদী এখন পানিশূন্য

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের স্রোতস্বিনী ডাকাতিয়া নদী এখন পানিশূন্য। এখন নদীর কোথাও চাষ হচ্ছে নানা ধরনের ফসল আবার কোথায়ও মাটি শুকিয়ে খড়খড়ে হয়ে উঠেছে। এ সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী নদী থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন। এছাড়া বর্ষাকালে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় কোথাও কোথাও কাদা মাটির গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বর্ষায় হুমকির মুখে পড়ছে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর এবং ফসলি জমি।

স্হানীয়রা জানায়, ডাকাতিয়া নদী বর্ষাকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন কাজে ব্যবহার হয়। শুকনো মৌসুমে নদীর পানি দিয়ে তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কিন্তু খনন না করা বর্তমানে নদীটি পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ডাকাতিয়া নদী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মধ্যবর্তী স্হান চৌদ্দগ্রামের কাশীনগর ত্রি-মোহনা থেকে শুরু হয়ে ফেনী নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রামে ডাকাতিয়া নদীর ১৬ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার আয়তন রয়েছে।

সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশীনগর থেকে নদীটির খনন শুরু করা হয়। দুই দফায় নাঙ্গলকোট উপজেলার পূর্ব বামপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্হানীয়দের অভিযোগ দায়সারাভাবে খনন করায় এরই মধ্যে ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে ডাকাতিয়া নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। এতে চরম সেচ সংকটে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক।

এ বিষয়ে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ কবির মজুমদার টুটুল বলেন, ডাকাতিয়া নদীর মাটি কেটে নেওয়ায় এবং অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়, ফসলি জমি এবং পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট নদীতে ভেঙে পড়ছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাকাতিয়া নদী খনন এবং সাতবাড়িয়া থেকে অলোকদিয়া হয়ে মহুরি প্রজেক্ট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় এলাকার কৃষক এবং মত্স্যচাষির উপকৃত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে নতুন ডাকাতিয়ার ১২ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। পুরাতন ডাকাতিয়ার নাঙ্গলকোট অংশে খনন করার জন্য একটি প্রকল্প ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নদী থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।