রবিবার (১ মে) দেশের আকাশে চাঁদ না ওঠায় সোমবার পূর্ণ হচ্ছে ৩০ রমজান। মঙ্গলবার (৩ মে) সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। গত দু'বছর করোনার কারণে ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন বন্ধ ছিল। করোনা ভীতি কাটিয়ে এবার সারাদেশের মতো কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজন হবে ঈদ জামাত। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলার প্রথম জামাত এখানে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
ইতোমধ্যে ঈদগাহে প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম মৌলানা মাহমুদুল হক। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা উদ্দীপনায় পালন করা যায়নি। তবে এবার করোনার প্রভাব কিছুটা কমায় আবারো ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত হচ্ছে দেখে খুশি সাধারণ মানুষ। জেলার শহরের মতো উপজেলাতেও ঈদগাহ মাঠে এবং মসজিদে হবে ঈদের জামাত।
কক্সবাজার প্রশিক্ষিত ইমাম সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ছিদ্দিকী জানান, ২৫ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঈদুল ফিতরের জামাতসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভা সিদ্ধান্ত হয়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সোমবার অথবা মঙ্গলবার দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে আসায় এবার ঈদগাহ মাঠেই হবে ঈদের নামাজ। তবে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ ছাড়াও কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক ফাহমিদা বেগম এবং বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদ জামাত আয়োজক কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ঈদ জামাতে অগণিত মুসল্লি যোগ দিতে পারে। ফলে সবার মধ্যে ভাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বাড়ে। করোনার কারণে গত দু'বছর ঈদের নামাজ আমরা মাঠে আদায় করতে পারিনি। মহান আল্লাহ আবার আমাদের সুযোগ দিয়েছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মাঠে প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মাঠ ভরাট, উন্নতমানের কাপড় দেওয়া, ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এবার ঈদগাহ মাঠে আগের মতো ১৫-২০ হাজার মানুষ একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। বৃষ্টি হলেও যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য ওপরে ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ হতে ঈদ নামাজে আসা মুসল্লিদের অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেয়র মুজিব।
আবারো ঈদগাহে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে বাহারছড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠেই ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি। মাঠে হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ পড়ার আনন্দ আলাদা। করোনা মহামারিতে গত ২ বছরে চারটি ঈদের নামাজ ঈদগাহ মাঠে পড়তে পারিনি। আল্লাহর রহমতে এখন আবারো আয়োজন হচ্ছে দেখে খুবই ভাল লাগছে।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, মহান আল্লাহর জন্য একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর আনন্দ উৎসব হয়ে হাজির হয়। সেই আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনে সবাই ঈদগাহ মাঠে সমবেত হবো। যারা মাঠে আসবে বা জেলার নিজ উপজেলা, পৌরসভা ও সামাজিক মসজিদে যারা ঈদের নামাজে শরীক হবেন তারাসহ সকল জেলাবাসীকে জেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনুক সেই প্রত্যাশা করছি।