চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে আবারও আগুন 

চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত ইয়ার্ডে একটি কনটেইনারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় দফা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো চট্টগ্রাম বন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায়। বন্দরের ভেতর নাশকতা চলছে এ ধরনের সন্দেহকে নাকচ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেওয়া যায় না। একাধিক ব্যবসায়ী সূত্র বলছেন-বন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় এরকম ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এই বন্দরের ইতিহাসে বিরল। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, গতকাল শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টায় বন্দরের ৪ নম্বর গেইট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এটিএস লজিস্টিক লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কনটেইনারটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। কনটেইনারের ভেতর নানা ধরনের এলইডি লাইট, টিউব লাইট, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য ও সরঞ্জামাদি রয়েছে। টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারটি পৃথক করে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে। কেনো আগুন লাগলো সে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।  

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ সিকদার জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি স্টেশনের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট চেষ্টা চালানোর পর সকাল সাড়ে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। 

এদিকে গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ২২ মে সকাল ৮টায় এই ৪ নম্বর বন্দর গেইটের কাছেই ৮ নম্বর ইয়ার্ডে একটি কনটেইনারে প্রথমে বিস্ফোরণ ও সাথে সাথে আগুন প্রজ্বলিত হয়ে ওঠার ঘটনা ঘটেছিলো। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায়ও সেবার আগুন নিয়ন্ত্রণ করে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ক্ষয়ক্ষতি রোধ সম্ভব হয়েছিলো। সে সময় তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখতে পায়-বিস্ফোরিত কনটেইনারটির ভেতরে মাছের খাদ্য হিসাবে আমদানিকৃত সোডিয়াম পার কার্বোনেট টেবলেট সংরক্ষিত আছে। এই মে মাসের তীব্র গরম থেকে সৃষ্ট হিট ওয়েবে কনটেইনানটি বিস্ফোরিত হয়েছিলো বলে সে-বার তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো।