প্রশাসনের ‘নাম ভাঙিয়ে’ অবৈধভাবে বালু তুলছেন সাবেক ইউপি মেম্বার!

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের নামে অবৈধভাবে মাটি খুঁড়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ স্বীকার করে কমিজ উদ্দিন জানান, তিনি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমানের অনুমতি নিয়েই বালু তুলছেন। তবে, তার এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইউএনও।

‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ অনুযায়ী ভূ-গর্ভস্থ বা নদীর তলদেশ থেকে বালু, মাটি  তোলা, পরিবহন, বিপণন ও সরবরাহ নিষিদ্ধ। তবে, কেউ যদি ইজারা নেয়, তাহলে ইজারার শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ বালু ইজারাদার তুলতে পারবেন।

ইতোমধ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা ও মাঠ প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ওই ইউপি সদস্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে তার নিজের পুকুর খোঁড়ার বলে কথা দিনের পর দিন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আউলিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলেছেন। পাশাপাশি বালুর সঙ্গে উঠে আসা পাথরও তুলছেন তারা। 

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও সাংবাদিককে মাসোহারা দেওয়ার দাবি করে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার বলেন, ‘কিসের তথ্য নেন। কতজন আসলো গেলো, কী করার ইচ্ছে আছে করেন। আমি ইউএনও-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি। তিনি পার্শ্ববর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরির জন্য ৩০০ ট্রলি বালু চেয়েছেন। তার অনুমতি নিয়েই মেশিন দিয়ে শুধু বালু তুলছি। পাথর নয়। আসেন ব্যবস্থা করবো।’

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, ‘তার (কমিজ উদ্দিন) কাছে কোনো প্রকার বালু চাওয়া হয়নি। এ ধরনের কোনো কথাই হয়নি। তার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’ 

এ ব্যাপারে পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি বিষয়টি দেখতেছি।’