সুনামগঞ্জের সুরমা ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের শাহিনুর মিয়ার দুই ছেলে। বড় ছেলে মো. শাওনের বয়স ১২ বছর। ছোট ছেলে সাতবছর বয়সী রহিম প্রতিবন্ধী। পরিবারে অভাব-অনটনও নিত্যদিনের। বাবা-মা ও ছোটভাইকে সাহায্য করতে শিশুবয়সেই কাজে নেমে পড়তে হয়েছে শাওনকে। অর্থ উপার্জনে ঢাকা শহরের গুলিস্তানে তরমুজ বিক্রি করে সে।
শিশু শাওনের তরমুজ বিক্রির একটি ছবি প্রকাশ হয় দৈনিক ইত্তেফাকে। গত ১৪ মে ইত্তেফাকের ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনির তোলা ছবিটি পত্রিকায় প্রকাশের পর তা নজরে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে শিশু শাওনের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মে) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তহবিল থেকে তাদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এই পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ওই দুই শিশুর মা জরিনা বেগম জানান, সংসারের অভাব মেটাতে আমার দুই ছেলে ঢাকায় তরমুজ বিক্রির কাজ নেয়। সেখানে ইত্তেফাকের একজন সাংবাদিক আমার ছেলেদের ছবি তুলে পত্রিকায় দিলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে এবং একটি ঘর উপহার দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, 'গতকাল ২০ হাজার টাকা অসহায় পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর এই পরিবারকে উপহার দেওয়া হবে। তরমুজ বিক্রেতা দুই ভাইকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ভাতাও দেওয়া হবে।'