কুসিক নির্বাচন: মিছিল-মাইকিংয়ে ভোটের আমেজ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ জন এবং কাউন্সিলর পদে সাধারণ ওয়ার্ড থেকে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে ৩৬ জনসহ ১৪৭ জন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় নগর জুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস-আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে নগরী। পথসভা, উঠান বৈঠক, পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ, খণ্ড খণ্ড মিছিল আর মাইকিংয়ে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনি উত্তাপ। প্রার্থীদের কাছে বেড়েছে ভোটারদের কদর।

নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার চতুর্থ দিন গতকাল সোমবার নগরীতে বেড়ে যায় ভোটের উত্তাপ। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছিল কোনো না কোনো প্রার্থীর পদচারণা। প্রার্থীর গুণের বয়ানে আর স্লোগানে মাইকিং চলছে নগরীর অলিগলিতে। মেয়র ও কাউন্সিলরসহ ১৪৭ প্রার্থী ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। প্রার্থীদের প্রচারণা ও গণসংযোগে ভিন্ন আমেজ যোগ করেছে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচারণা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।

অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মিছিল, মাইকিং, লিফলেট বিলির প্রচারণায় ভোটের মাঠের পরিবেশ মুখর হয়ে উঠেছে। তবে নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী এবং বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে প্রভাবশালী তিন প্রার্থী নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে পুরোদমে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ও দলের নেতাকর্মীরা সোমবার নগরীর কান্দিরপাড়, রামঘাট, ঠাকুরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু নগরীর কালিয়াজুরি, ছোটরা, ভাটপাড়া, বদরপুর, বিষ্ণুপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। এদিকে নির্বাচনে মহানগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলররাও গণসংযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিংয়ে চলছে ভোট চাওয়ার প্রচার-প্রচারণা।

নৌকার প্রার্থী রিফাতের ১১ দফার প্রচারপত্র: সোমবার সকাল থেকে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে নগরীর উন্নয়নে তার ১১ দফা অঙ্গীকার সংবলিত একটি প্রচারপত্র (লিফলেট) বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এসব অঙ্গীকারের মধ্যে আছে—‘সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন করা, করের টাকা সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে উন্নয়নকাজে ব্যয় করা ইত্যাদি। এদিন এ প্রার্থী নগরীর কান্দিরপাড়, কাপ্তান বাজার, মোগলটুলি, গাংচর, শ্রীভল্লবপুর ও কোটবাড়ী এলাকায় গণসংযোগ করেন।

আমার কাজের মূল্যায়ন করবে জনগণ: সাক্কু

সদ্য সাবেক মেয়র ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি) বলেন, এ সিটির প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচনে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিল। বিরোধী দলে থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। তিনি বলেন, গত ১০ বছর বিরোধী দলের হয়েও এ সিটির অনেক উন্নয়ন করেছি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও পদক্ষেপ নিয়েছি—নগরবাসী তা দেখেছে। সরকার নগরীকে আধুনিকায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য আশা করি এ নির্বাচনেও নগরবাসী আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করাসহ এ সিটিকে উন্নত সিটিতে রূপান্তর করবেন বলে জানান তিনি। সাক্কু নগরীর কান্দিরপাড় জিলা স্কুল রোড, সিটি মার্কেট, নজরুল অ্যাভিনিউ, লাকসাম রোড এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন।

প্রার্থীদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে সর্বকনিষ্ঠ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া) নির্বাচনি মাঠে বেশ তৎপর। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়ে তিনি পথসভা ও গণসংযোগ করছেন। সোমবার তিনি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুভপুর থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। বিকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাজার ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। গণসংযোগকালে তিনি নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা, যানজট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নগরীকে আধুনিক মানের করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।