নোয়াখালী শহরের ক্রীড়াঙ্গনে একটা কথা বেশ প্রচলিত— ‘যেদিকেই যাবেন, মিলন স্যারের স্টুডেন্ট পাবেন।’ নোয়াখালী জেলায় অ্যাথলেটিক্সের সবচেয়ে বড় নাম রফিকুল্লাহ আক্তার মিলন। খেলোয়াড় ছিলেন, এখন কোচ। গোটা জীবন যিনি পার করেছেন ট্র্যাক ও ফিল্ডে। নিজে অ্যাথলেট ছিলেন। ১৯৭৯-৮১, টানা তিনবার কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ’৮২ ও ’৮৪ সালে তা ধরে রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের হয়ে। ’৮৮ সালে দ্রুততম মানব হন সিলেট বিভাগের অধীনে।
একসময় খেলাধুলার পর্ব চুকিয়ে স্বপ্ন দেখেন খেলোয়াড় গড়ার। আন্তর্জাতিক পদকজয়ী বাংলাদেশি অ্যাথলেট মাহফুজুর রহমান মিঠু, শামসুদ্দিন, সুমিতা রাণী দাস, নাজমুন্নাহার বিউটিরা মিলন স্যারের কাছে সন্তানতুল্য। সোনাপুর ডিগ্রি কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক রফিকউল্লাহ আক্তার মিলন তিন দশক ধরে নিজ খরচে তৃণমূল থেকে উঠিয়ে আনছেন প্রতিভা। ‘সোনাপুর অ্যাথলেটিক্স ক্লাব’ নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজস্ব ক্লাব। এত বছরেও সেভাবে পাননি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। তা নিয়ে আফসোস থাকলেও থেমে থাকতে নারাজ তিনি।
শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সরঞ্জাম কিংবা হাতখরচ, সবই দেন তিনি। মনেপ্রাণে চান প্রতিভা যেন ঝরে না পড়ে। প্রতিবছর জাতীয় প্রতিযোগিতাগুলোতে সাফল্য আনে তার খেলোয়াড়রা। তিনি বলেন, ‘সঠিক দিকনির্দেশনা ও অনুশীলনের সুযোগ পেলে আমাদের অ্যাথলেটরা অন্তত এশিয়ান পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।’ ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০২ সালে বাংলাদেশ অ্যাথলেট কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সেরা সংগঠকের পুরস্কার, ২০০৮ সালে সেরা প্রশিক্ষক হিসেবে সাদ’ত স্মৃতি সদন বিশেষ সম্মাননা, ২০১১ সালে সেরা সংগঠক ও কোচ হিসেবে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৮ সালে সেরা সংগঠক হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।