এবার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের রাজশাহী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিমল কুরির স্ত্রী সোমা সাহার (৪৪) বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি একজন গৃহিণী, তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস নাই। তিনি তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তার স্বামী পরিমল কুমার কুরীর অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থকে বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি উক্ত অর্থ দ্বারা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন এবং আয়কর নথিতে তা প্রদর্শন করেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি সোমা সাহা অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের নিজ মালিকানা অর্জন এবং তিনি উক্ত অপরাধলব্ধ টাকার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করার লক্ষ্যে ও সম্পৃক্ত অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার অভিপ্রায়ে জ্ঞাতসারে স্থানান্তর বা রূপান্তর বা হস্তান্তর করার অপরাধে উক্ত মামলা দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর ই/আর নং ১/২০১৮-এর অনুসন্ধান শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় আসামি সোমা সাহা’র নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের আদেশক্রমে আসামি সোমা সাহা তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। ওই বিবরণী সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন যাচাই করে তার বিরুদ্ধে উক্ত মামলা দায়েরের সুপারিশ করে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিশনের অনুমোদন প্রাপ্তীর পরেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
সোমা সাহার স্বামী পরিমল কুমার কুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী সার্কেল, রাজশাহীর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ ১২ হাজার ৬৭৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য অসদুদ্দেশ্যে গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান করা ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসংগতিপূর্ণ ৫০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫১৬ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অর্জন করার অপরাধে গত সোমবার পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।