বেশ কিছুদিন ধরে মৃত ডলফিন-কচ্ছপ ভেসে আসছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। বিষয়টি উদ্বেগজনক হওয়ায় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হয় জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি। তাদের অনুসন্ধানে এসব প্রাণীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। আর সুনির্দিষ্ট কারণ না জানায়, এসব সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে মৃত ডলফিন সাগর থেকে ভেসে কুয়াকাটা সৈকতে আসছিল। গত বছর থেকে কচ্ছপসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও মৃত অবস্থায় ভেসে আসতে শুরু করে। আমরা এগুলোকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করি। ক্রমান্বয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসন উপকূলীয় অঞ্চলে ডলফিন ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। এই কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ঐ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়। এরমধ্যে মেকানাইজড জাহাজের বেহুন্দি জালে আটকা পড়ে ও পাখায় আঘাত পেয়ে ডলফিন মারা যাওয়ার ঘটনা বেশি গ্রহণযোগ্য বলে দাবি করা হয়। তবে তারা এসব সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানাননি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঐ তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন এত ডলফিন মারা যাচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তাছাড়া ডলফিন মৃত্যুর কারণ তদন্তে যে ধরনের মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও লোকবল থাকা দরকার তা মৎস্য অধিদপ্তরের নেই। ফলে ডলফিন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডলফিন মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিস্তর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
ওয়ার্ল্ড ফিসের ইকোফিস-২ প্রকল্পের পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, অধিকাংশ ডলফিন ও কচ্ছপ জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যায়। বিশেষ করে ডলফিন জলজ প্রাণী হলেও সে পানির ওপরে উঠে অক্সিজেন গ্রহণ করে। সাগরে ফিশিং ট্রলারে জালে আটকা পড়লে পানির নিচে কয়েক মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। জেলেরা ডলফিন ও কচ্ছপসহ এ ধরনের জলজ প্রাণী জালে আটকে পড়াকে অশুভ মনে করে। তারা এগুলোকে কঠিন কিছু দিয়ে আঘাত করে ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। না পারলে জাল কেটে দেয়। একারণে এখানে আসা অধিকাংশ মৃত ডলফিন ও কচ্ছপের গায়ে জাল প্যাঁচানো থাকে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এভাবে একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনের জন্য আরো ব্যাপক অনুসন্ধান ও পরীক্ষানিরীক্ষা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীর কাস্টডিয়ান। কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে জনবল দরকার তা আমাদের বিভাগের নেই। এ বিষয়টি জানিয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।