চাই শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সারা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এবং জাতির উন্নয়নের জন্য এখন বেশি প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনার অন্যতম এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা। দেশের মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে দেশ এগিয়ে যায়, এগিয়ে যায় সভ্যতা। আর শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকরী মেলবন্ধন। এই মেলবন্ধন করতে গেলে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে; কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— মেলবন্ধনের এ দায়িত্ব পালন করবে কারা! বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য দেশপ্রেমিক মানুষ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আর এর জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে এই মানুষ গড়ার রোডম্যাপ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়াতে হবে এবং বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের অনেক গুণীজন মনে করেন, ‘বাজেট যা আসে তাও নাকি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় না’। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে সবার জানা আছে। আবাসন সমস্যা, খাওয়ার সমস্যা, চিকিৎসার সমস্যাসহ আরো অনেক সমস্যা। এই সমস্যাগুলো নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ের সঙ্গে আমরা তুলনা করি, এরপর হতাশ হই। করোনাকালে যখন বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস চলে, তখনো আমরা করণীয় ঠিক করতে পারিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ টিউশনি করে চলে। অথচ পরিবারের খরচ কমানোর জন্য অনেক পরিবার এখন আর টিউটর রাখতে চায় না। আবার হলের খাওয়ার দামও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাওয়ার দাম আগের তুলনায় ১০-১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও মান খুবই খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কথা বলার এবং শোনার যেন কেউ নেই!

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে খাওয়ার দাম এবং মান সম্পর্কে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কোনো জরিপ বা গবেষণা করেছে কি না, তা আমার জানা নেই। খাওয়ার জন্য কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় কি না, দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্হিতিতে তা বাড়ানো হয়েছে কি না, তাও জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাওয়ার মান বৃদ্ধি এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে না রেখে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আমরা অকপটে স্বীকার করি— আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, আছে সম্পদের অপ্রতুলতা। কিন্তু তাই বলে শিক্ষার্থীদের মতো মূল্যবান সম্পদের রক্ষায় আমরা কার্পণ্য করব! শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শিক্ষাখাতের বাজেট সম্পর্কে বলেছেন, আগামীর দিনে শিক্ষা খাত হবে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প— আশা জাগানিয়া কথা বটে। অগ্রসরমান বাংলাদেশের বাজেট বেড়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের ৭৮৬ কোটি টাকা থেকে এখন ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে আমরা সামনে অগ্রসর হচ্ছি। আর এই অগ্রসরমান বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব হোক— এই প্রত্যাশা করি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়