পারমাণবিক বোমা তৈরির ক্ষমতা ইরানের রয়েছে: খামেনির উপদেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাবশালী দেশ হয়ে উঠতে ইরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক অথবা বিশ্বব্যাপী কোনো দেশ আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে মোক্ষম হাতিয়ার হচ্ছে এই অস্ত্র।

অবশ্য শান্তিপূর্ণ উদ্দেশেই পারমাণবিক কর্মসূচি চলছে বলে বরাবরই দাবি করে আসছিল তেহরান। তবে এবার যেন ভেতরের কথাটা বেরিয়ে এলো। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। সোমবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের এক ইরানি কর্মকর্তা রবিবার কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে দেশটি এখনও তা (অস্ত্র তৈরি) করার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এএফপি জানায়, ইরানের ‘পরমাণু বোমা তৈরির প্রযুক্তিগত ক্ষমতা আছে’ বলে দাবি করা ওই কর্মকর্তার নাম কামাল খারাজি। তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত একটি উপদেষ্টা বোর্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তবে কামাল খারাজিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে আরেক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রবিবার আলজাজিরা টিভিকে কামাল খারাজি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও তেহরান এখনও ‘পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। এসময় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখার অঙ্গীকার করে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। আর এরপরই তেহরানের অন্যতম শীর্ষ একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরির সক্ষমতা নিয়ে এই মন্তব্য সামনে এলো।

এএফপি বলছে, ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি আলজাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলের গভীরে হামলা করার ক্ষমতা অর্জন করার জন্য ইরান ব্যাপক মহড়া চালিয়েছে। তার দাবি, ‘যদি স্পর্শকাতর (ইরানি) স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়’ তাহলে ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানবে তেহরান।

অবশ্য ইসরায়েলের গভীরে হামলার সক্ষমতা অর্জনের ওই মহড়া কবে হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি কামাল খারাজি।