খাদ্যের অপচয় রোধ করা সময়ের দাবি

পুরো পৃথিবীতে উৎপাদিত খাদ্যের বিরাট অংশ নষ্ট ও অপচয় হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য নষ্ট হয়। যা একদিকে খাদ্য নিরাপত্তায়, অন্যদিকে কৃষকের আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে চলমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাংলাদেশে খাদ্যের অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, মানুষের জন্য উৎপাদিত খাবারের মধ্যে অপচয় হয় ১৩০ কোটি টন (মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ)। খাবারের অপচয় রোধে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে; কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে আমাদের প্রচেষ্টা, উদ্যোগ ও আন্তরিকতা কতটুকু? অনেক বাড়িতে প্রতিবেলায় এত এত খাবার রান্না হয় যে, খেতে না পারার কারণে পরে তা ফেলে দিতে হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে বছরে মোট খাবারের ১৭ শতাংশ রেস্তোরাঁ ও দোকানে অপচয় হয়। আমাদের আরেকটি অভ্যাসে ভীষণ অবাক হই, খাবার টেবিলে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পরিবেশিত হলে পেট ভরে যাওয়ার পরও চোখের ক্ষুধা সামলাতে না পেরে অনেকে পেটে খাবার তুলতেই থাকে। পরে খেতে না পেরে ঐসব খাবারের জায়গা হয় বোনপেটে। এফএওর তথ্যমতে, উৎসবের দিনগুলোয় এ অপচয়ের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে কী পরিমাণ খাদ্য নষ্ট বা অপচয় হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও কয়েকটি গবেষণায় দেখা যায়, শাকসবজি ও ফলমূলে পোস্টহার্ভেস্ট নষ্ট বা অপচয়ের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, বার্ষিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। মাঠে ফসল বোনা, পরিচর্যা, ফসল কাটা, প্রক্রিয়াজাত করা, দোকানে পৌঁছানো, ক্রেতার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই খাদ্য নষ্ট বা অপচয় হয়, যা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেজন্য কোনোভাবেই খাদ্য নষ্ট ও অপচয় করা যাবে না। আমাদের খাদ্যবিলাসিতা থেকে সরে আসার চেষ্টা করতে হবে। ‘প্রয়োজন’কে সীমিত পর্যায়ে নিতে আসতে হবে। ব্যক্তিসতর্কতাও খাদ্যের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এটি আরো বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

জিহাদ হোসেন রাহাত, শিক্ষার্থী, প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ, লক্ষ্মীপুর।