শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

প্যাঁচা কোনো অশুভ পাখি নয়

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:০২

অত্যন্ত নিরীহ এই পাখিটিকে অশুভ ভাবার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। পৃথিবী জুড়ে ১৭০ প্রজাতির প্যাঁচা দেখা গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে ১৬ প্রজাতির। এর মধ্যে দেখতে আর্কষণীয় হলো লক্ষ্মী প্যাঁচা। এরা মাথা ঘুরিয়ে প্রায় পুরোপুরি পেছনেও তাকাতে পারে। প্যাঁচার ডাক শুনে অনেকেই একে অশুভর প্রতীক বলে ভাবেন। কোনো কোনো অঞ্চলে প্যাঁচা ডাকলে ঘরে ওঠার সিঁড়িতে জল ঢেলে দেওয়া হয়। এতে নাকি সব ধরনের অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দা, খুন্তি আগুনে গরম করা হয় প্যাঁচার গায়ে ছ্যাকা দেওয়ার জন্য।

প্যাঁচা দিনের আলো সহ্য করতে পারে না। তাই বড় বড় গাছের কোটরে, বন-জঙ্গল, দালানের ফাঁকফোকর কিংবা গাছগাছালির ঘনপাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। নির্বিচারে বৃক্ষ উজাড়, ফসল আবাদ করতে জমিতে বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, অশুভ পাখি বলে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে প্রকৃতি থেকে প্যাঁচার সংখ্যা কমছে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় শুভ ও সুন্দরের প্রতীকরূপে বারবার আবিভূ‌র্ত হয়েছে বাংলার প্যাঁচা— ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে,/সবচেয়ে সুন্দর করুণ;/সে স্থানে লক্ষ্মীপ্যাঁচা/ধানের গন্ধের মতো অস্পষ্ট তরুণ’।

প্যাঁচা কৃষকের অনেক উপকার করে। প্যাঁচার প্রধান খাবার ইঁদুর। ইঁদুর রাতে বের হয়। যেখানে ইঁদুরের আনাগোনা সেখানে প্যাঁচারও আনাগোনা। খেতের ভেতর প্যাঁচা বসার উপযোগী ডাল, বাঁশ ইত্যাদি পুঁঁতে রাখলে এক রাতেই ১২-১৩টি ইঁদুর সাবাড়। একটি প্যাঁচা প্রত্যেক রাতে কমপক্ষে একটি ইঁদুর খায়, একটি ইঁদুর কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার শস্য ধ্বংস করে। তাহলে একটি প্যাঁচা প্রতিবছর ১০ হাজার গুণ ৩৬৫= ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা রক্ষা করে। আর প্যাঁচাটি যদি কমপক্ষে ১০ বছর বাঁচে তাহলে কত টাকা রক্ষা করে। ভাবা যায়?

তাই প্যাঁচাকে রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতিতে ওরা থাকুক। বংশ বৃদ্ধি করুক। যেটা সবার জন্য মঙ্গলকর।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মিরপুর, ঢাকা

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন