এই প্রতিবাদ কি পৌঁছুবে কর্তৃপক্ষের কাছে?

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ০৭:১১

লবলং খালের দোখলা। জায়গাটি একসময় মাছের অভয়ারণ্য ছিল। ধানখেতের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি স্বচ্ছ পানির যে ধারা নিয়ে বয়ে যেত, তা একটা নৌপথও ছিল একসময়। বর্ষাকালে এখানকার মাছ খাল থেকে উঠে উঠে ধানখেত সয়লাব হয়ে থাকত। বুছনি, খলসুন, ধুন্দি দিয়ে মাছ ধরা হতো দেদার। প্রচুর বৃষ্টির রাতে খেতের আইলে পেতে রাখলে দানকিনা-টাকি-রাগা-টেংরা-পুঁটিতে সাদা হয়ে থাকত মাছ ধরার উপকরণগুলো। 

শুকনো মৌসুমে এই লবলং খালের পানিতেই চাষ হতো পুরো এলাকার ফসল। দিন যেভাবে পালটেছে, তাতে শেষ হয়ে গেছে এই অঞ্চলের জলজ পরিবেশের ভারসাম্য। ফসলি জমির মতো যত জায়গা এখন দেখা যাবে, সবগুলোই দূষিত পানির রাজ্য! ফলে বাড়ছে দুর্গন্ধের যন্ত্রণা, বাড়ছে রোগ, অস্বস্তি। গাজীপুরের শ্রীপুরের খালপাড়ের মানুষের এ দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই। ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। হেভি মেটাল কন্টামিনেট হচ্ছে ফসলেও! এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব কার তা নিয়ে বরাবরই হাহুতাশ এলাকাবাসীর।

গেল পরিবেশ দিবসে নদী নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের উদ্যোগে একদল তরুণ সে কারণেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন পুরো দিন ধরে। এ যেন এক দুঃখের প্রতিচ্ছবি। তাঁরা প্রতিটি ডাস্টবিনে গিয়ে নাক ধরে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, লজ্জা প্রকাশ করেছেন। লবলং খালের দোখলা অংশে সাদা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে প্রতিবাদ করেছেন দখল ও দূষণের। তাদের দাবি—এই পানিকে দূষণমুক্ত করতে হবে। সেন্ট্রাল এসটিপি ও ইটিপি নির্মাণ করে হলেও বাঁচাতে হবে জলজ সম্পদ। এই চাওয়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কি পৌঁছাবে?

 

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন