শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-টু’ দিয়েই হলে দর্শক ফিরতে শুরু করেছে: বাপ্পী

চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। এরইমধ্যে ক্যারিয়ারে বেশকিছু ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নির্মাতা-প্রযোজক থেকে শুরু করে দর্শকদের কাছে নিজের শক্ত অবস্থা তৈরি করেছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা নিজের অভিনয় ব্যস্ততাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল

নতুন একটি সিনেমায় পুলিশ হয়ে ধরা দিতে যাচ্ছেন। সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই
হ্যাঁ, ‘শত্রু’ শিরোনামের একটি পুলিশ অ্যাকশন সিনেমার কাজ করছি। এই সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ফুল পুলিশ অফিসার হয়ে পর্দায় আসছি।

এর বাইরে অন্যান্য কাজের ব্যস্ততা...
নতুন বেশ কয়েকটি কাজের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘জয় বাংলা’, ‘ডেঞ্জার জোন’, ‘৫৭০’, ‘কুস্তিগীর’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা। পাশাপাশি ‘ঢাকা ২০৪০’ সিনেমাটির কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। আশা করছি বাকি কাজ শিগগিরই শেষ করতে পারব।

bappy

আপনার ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’ থেকে এখন অবধি মুক্তি পাওয়া বেশকিছু সিনেমা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, চলচ্চিত্রে সুবাতাস বইছে। আপনি কী বলবেন?
দেখুন, আমার ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’ দিয়েই কিন্তু হলে দর্শক ফিরতে শুরু করেছে। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, এই সিনেমাটি হিটের মাধ্যমে বছর শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন অবধি দর্শকদের দেশের সিনেমা নিয়ে যে উন্মাদনা-ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী। এভাবে চলতে থাকলে চলচ্চিত্রে সুদিন ফিরবেই।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা কী আদৌ বজায় থাকবে?
এখন যদি ভালো ভালো কন্টেন্টের ছবি আমরা রিলিজ দিতে পারি তাহলে অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আমাদের অনেক শিল্পী-নির্মাতা ভালো কাজ করছেন। এখন একে একে সেই সিনেমাগুলো মুক্তি দিতে হবে।

গত ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো নিয়ে শিল্পীরা নানা তর্ক-বির্তকে জড়িয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
দেখুন, আগে দর্শকরা কথা বলতেন, আমরা শুনতাম। এখন আমরা কথা বলছি, দর্শকরা শুনছেন। তারা হয়তো এটাকে প্রচারণার অংশ মনে করছেন। কিন্তু আমি নেতিবাচক তর্ক-বির্তককে প্রচারণার অংশ মনে করি না। কারণ আমি কখনও এমন কাজ করিনি। তাছাড়া এমন প্রচারণা ইন্ডাস্ট্রিতে আগে ছিল না। তবে নিজেদের ছোট করে যদি তারা দর্শক আনতে পারে তাহলে তাদের সাধুবাদ জানানো উচিত!

এখন হলের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শিল্পীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। যদিও আপনাকে কখনও দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
আমার সবসময় মনে হতো শিল্পীরা পর্দাতেই শোভনীয়। আমরা যদি বাইরে বাইরে গিয়ে সবার সঙ্গে মিশে যাই তাহলে তো বিশেষ কিছু থাকলো না। কিন্তু এখন যেহেতু প্রচারণার নতুন এই ট্রেন্ডটি চালু হয়েছে সেহেতু এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এ ধরনের প্রচারণায় দর্শক হলে এলে আমিও ভবিষ্যতে অংশ নেবো।

bappy chowdhury

অনেকেই বলছেন, দর্শকরা দেশীয় গল্পের দিকে ঝুঁকছেন। আপনি কী বলবেন?
আসলে সব ধরনের গল্পের দর্শকই আমাদের আছে। ভালো একটি কন্টেন্ট ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দর্শকরা দেখেন।

তাহলে বলতে চাচ্ছেন নির্মাতার ওপর চলচ্চিত্রের সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে?
অবশ্যই! একজন নির্মাতাই পারেন একটি গল্পকে সুন্দর, শৈল্পিকভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে। সাম্প্রতিক সময়ে যার বড় প্রমাণ রাফি, মেজবাউর!

নতুন হিরো-হিরোইন নিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন। তারা কী আদৌ পুরনোদের ছাপিয়ে যেতে পারবেন?
পুরনোদের চেয়ে নতুনরা ভালো করবে। আবার নতুনদের চেয়ে পুরনোরা ভালো করবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে পুরনোদের তো বাদ দিতে পারবেন না। তাহলে ইন্ডাস্ট্রির ধ্বংস অনিবার্য! ফোনের ভার্সন চেঞ্জ হলে ফোন কিন্তু ফোনই থাকে। তাছাড়া আমি মনে করি নতুন পুরনোদের সমন্বয়ে ইন্ডাস্ট্রি ভালো অবস্থান তৈরি হবে।

এফডিসি ঘরানার শিল্পী-নির্মাতাদের সঙ্গে ঘরানাটির বাইরের শিল্পী-নির্মাতাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। আসলে আপনাদের সম্পর্কগুলো কেমন?
এটা আসলে কখনোই বিশ্বাস করি না যে, কমার্শিয়ান নির্মাতা এবং মিডিয়া নির্মাতা আলাদা কিছু। আমার কাছে সবাই নির্মাতা এবং তিনি নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন সবই নির্মাণ করতে পারবে।