জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) যায় সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ ও সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় নেতৃবৃন্দ বুয়েট শহীদ মিনারে পুষ্পস্তাবক অর্পন করে শ্রদ্ধা জানায়।
বুয়েটে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তন্ময় আহমেদ লেখেন, বুয়েটের ছেলেরা সাইন্স পড়া ছাত্র তারা মৌলবাদকে ধারণ করার প্রশ্নই উঠে না। পরিস্থিতি বুঝে শিবিরের আন্ডারগ্রাউন্ডের কর্মীরা বুয়েটের ছেলেদের উস্কানীমূলক কথা বলে বার বার প্রগতিশীল শক্তির মুখোমুখি দাড়া করায়। খুব জটিল সমীকরণ তাই এক স্ট্যাটাস লিখে বুঝানোর ক্ষমতা আমার নাই। বুয়েট শিবির মুক্ত থাকুক এটাই সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রত্যাশা।
এদিকে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক এই শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে আবারও ফেসবুক গ্রুপে সরব ভূমিকায় দেখা যায় কিছু শিক্ষার্থীকে।
বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় সকল রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম। বুয়েটে বিগত বছরগুলোতে সাবেকুন নাহার সনির স্মৃতিফলকে ছাত্রলীগ ছাড়াও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলোও পুষ্পস্তাবক অর্পন করে আসছে। এ ছাড়াও বুয়েট ছাত্র নজরুল ইসলাম হলের আরিফ রায়হান দীপের মামলা এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং তার স্বঘোষিত খুনির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা না করায় এ বিষয়ক অনলাইন আলোচনার পাশাপাশি একাধিকবার পুষ্পস্তাবক অর্পন করেন ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আদালত এ হত্যার দায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। কিন্তু বুয়েট শিক্ষার্থী আরিফ রায়হান দীপকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ৮ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তার বিচার হয়নি। উল্টো তার খুনিদের পরিবার থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা যায়। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্যও বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানায় পরিবারটি।