দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত 

মূল্যবৃদ্ধি আর নতুন কোনো কথা নয়। প্রায় সারা বছর মূল্যবৃদ্ধির আঁচে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লেগেই থাকে। প্রান্তিক মানুষের কথা বাদই থাকুক। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত পরিবারেও নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা।

বাজারে গিয়ে পছন্দের জিনিস কেনা তো দূরের কথা, একান্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তাব্যক্তিরা। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরো করুণ। তাদের পক্ষে এখন কোনোমতে দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে মধ্যবিত্তরা আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে চাইতেও পারে না, এমন পরিস্থিতিতে সংসারও ঠিকমতো সামাল দিতে না পেরে মানসিক অশান্তিতে ভুগছে অনেকে। তাদের অবস্থা এমন যেন, জীবনযুদ্ধে এসে অনেকে হার মানা না-মানার প্রশ্নের বিতর্কে জড়ালেও শেষ অবধি তারা হার মানতে বাধ্য হন দ্রব্যমূল্যের জায়গায় এসে। অতি প্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের অগ্নিমূল্য মধ্যবিত্তদের বাজারে গিয়ে কিছু কিনতেও দুর্বার ভাবতে বাধ্য করে। চড়া দাম মুরগি, গরুর মাংস, দুধ, কাঁচা সবজি সব জায়গাতেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা পর্যন্ত। গরুর মাংসের এমন ঊর্ধ্বগতিতে অনেক মধ্যবিত্ত উত্সব অনুষ্ঠান বা প্রয়োজন ছাড়া মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে ।

উচ্চমূল্য দিয়ে এসব কিনতে পারে না বলে অনেকেরই শেষ ভরসা ছিল ডিম; কিন্তু গেল কয়েক দিনে ডিমের দাম ইতিহাস গড়েছে। এতে মধ্যবিত্তের ওপর যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় দাম বাড়ানোর এক প্রতিযোগিতা লক্ষণীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে; কিন্তু এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না মানুষের আয়। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিবহনে অহেতুক দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে, কিন্তু এর বাস্তবিক কোনো প্রয়োগ নেই দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল, ডলারের দাম বেড়েছে। কারণ দেখিয়ে যে জায়গায় এক টাকা বাড়ার কথা, সেখানে ১০-১৫ টাকা বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত বাজার তদারকি না করলে এবং কালোবাজারি, সিন্ডিকেট রোধ না করলে মধ্যবিত্তরা আরো দুর্ভোগে পড়বে। নাকাল হবে প্রতিটি মানুষ।

লেখক : শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়