‘আশীর্বাদ’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও নায়ক জিয়াউল রোশান। এটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিলো। এবার মুক্তির পালা। কিন্তু তার আগেই শুরু হয় বিবাদ। একদিকে অবস্থান করছেন পরিচালক, নায়িক ও নায়িকা। অন্যদিকে সিনেমার প্রযোজক। তাদের পাল্টা-পাল্টি অবস্থানে এখন অনেকেই বিব্রত।
‘আশীর্বাদ’ সিনেমার পরিচালক, নায়িক-নায়িকার বিরূপ আচরণের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার এফডিসির প্রযোজক সমিতির সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রযোজকরা।
এসময় প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌস বলেন, ‘আশীর্বাদ’ সিনেমার জন্য আমাদের ৩০টির উপরে হল পাওয়ার কথা সেখানে ১৫টি তো দূরের কথা আমি ১০টি হলও পাচ্ছি না। এই ক্ষতিপূরণ পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, চিত্রনায়ক রোশান ও নায়িকা মাহিয়া মাহিকে দিতে হবে। আমি অবশ্যই মামলা করবো। ‘আশীর্বাদ’ সরকারি অনুদানের সিনেমা। এটা ছেলেখেলা নয়। এই টাকা মানিক, রোশান ও মাহির ঘর থেকে ওঠাবো।
তিনি আরও বলেন, সিনেমার জন্য আমি যে টাকা পেয়েছি সেটা বণ্টন করেছে পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। আমার কাছে সবগুলোর ভাউচার আছে। কিন্তু তিনি সবাইকে ঠিকঠাক টাকাটাও দেননি। যাকে ৫০ হাজার দেওয়ার কথা তাকে দিয়েছে ১৫ হাজার। যাকে একলাখ দেওয়ার কথা তাকে দিয়েছে ৫০ হাজার।
পরিচালক ও প্রযোজক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, সিনেমা মুক্তির আগে একজন পরিচালক যদি বলেন- আমার এই ছবিটি আমি ভালো বানাতে পারিনি বা সিনেমাটি চলবে না। এটা মহা অন্যায়। এটা মুক্তির আগে তুমি বলেতে পারো না। কারণ প্রতিটি টিকিট থেকে সরকার রেভিনিউ পায়। এতো বড় অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয়।
প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, মাহিয়া মাহি সমস্ত প্রযোজকদের স্বার্থের হানি করেছে। তিনি কে- যিনি মূলধারার চলচ্চিত্রের অনুদান ফেরত নেওয়ার কথা বলেন। আপনি ‘আশীর্বাদ’ সিনেমার প্রযোজকের যে ক্ষতি করলেন সেটা কি তিনি পোষাতে পারবেন? আপনাদের কারণে এই সিনেমার প্রযোজকের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা আপনাদের পুষিয়ে দিতে হবে।
সত্তর দশকের ছাত্র রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকটি ধাপে সাজানো হয়েছে ‘আশীর্বাদ’র গল্প। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি।
সিনেমাটি প্রযোজনার পাশাপাশি এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তাহেরা জেনিফার ফেরদৌস। সংলাপ লিখেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু।