'সেবার ব্রতে মানবতার পথে' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ ডিসেম্বর ২০২০- এ যাত্রা শুরু করে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন (এসএইচবিও)। নোয়াখালীর মাইজদী শহরের এক তরুণী ও তিন তরুণের সম্মিলিত ভাবনার ফল এটি। চার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ফাহিদা সুলতানা, আল আমিন চৌধুরী, আরিফ আহমেদ ও আব্দুর রাজ্জাকের পাশাপাশি অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াবার আগ্রহে কাজ করছে একদল উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবক।
'আপন ঘরে সুখের হাসি'-প্রকল্পের মাধ্যমে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন নিজস্ব ভূমি ও স্ব-অর্থায়নে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ১০টি দরিদ্র ও সম্বলহীন পরিবারকে পাকা ঘর করে দেয়। একই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে চলছে জমি নির্বাচন। নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পরিচালিত 'উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট'- প্রকল্পের অধীনে ২০২১ সালে ১০ জন নারীকে ছাগল এবং ২০২২ সালে ১৫ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এসএইচবিওর তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক যুব দিবসে নোয়াখালীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় 'যুব উন্নয়ন কর্মশালা।' নোয়াখালীর নয়টি সংগঠনের শতাধিক সদস্য এতে অংশ নেয়।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। বন্যাপ্রবণতা এখানে বেশি। ২০২২ সালের ভয়ানক দুইটি বন্যাতে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন এগিয়ে আসে সামর্থ্যের সবটা নিয়ে। 'এসএইচবিও উইথ ডিজাস্টার ভিক্টিমস'- প্রজেক্ট, যেটি বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় চালিত হয় তার আওতায় দুই দফায় সরাসরি ৬০০ ও ১১০০ মানুষকে ত্রাণ সেবা দেয়। এছাড়া, পূনর্বাসনে পরোক্ষভাবে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী ও আর্থিক সেবা সরবরাহের মাধ্যমে। 'শতমুখে ইফতারের হাসি'- প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের পবিত্র রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন শতাধিক ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষদের ইফতার করানো হয় সোনাইমুড়ী রেলওয়ে স্টেশনে।
স্বাস্থ্যখাতে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে এসএইচবিও। শুরু থেকে প্রায় ১৪৬০ ব্যাগ রক্ত ম্যানেজ করে দিয়েছে। রক্তদাতা সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০০০ রক্তদাতা নিবন্ধন করার পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল চেক-আপ করে সংগঠনটি। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বাস্থ্যের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে সক্ষম হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। ২ জন অজ্ঞাত পরিচয় রোগীকে রাস্তা থেকে তুলে এনে নিজেদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রেখে সুস্থ করে, তাদের পরিবারের খোঁজ নিয়ে পরিবারের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এছাড়া নিয়মিতভাবে অসহায় ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় এবং পরবর্তীতে তাদের মেডিসিন খরচ দিচ্ছে; যাতে আছে ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া, করোনার মতো রোগে আক্রান্তরা।
সভ্যতার বিকাশে মানুষ যেখানে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, সেখানে এসএইচবিও-র স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যতিক্রম। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ফাহিদা সুলতানা জানান, 'আমাদের ইচ্ছে ছিল মানুষের জন্য ভিন্ন কিছু করার। সেখান থেকেই এসএইচবিও শুরু করার আগ্রহ জাগে। কারণ সমাজের জন্য কিছু করতে গেলে, পরিবর্তন আনতে গেলে প্রয়োজন দলগত প্ল্যাটফর্ম।'
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, 'এসএইচবিও মানুষের জন্য খুব ভালো কাজ করছে। সুন্দর আগামীর জন্য তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। যে কোনো ভালো কাজে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।'
সমাজে অবদান রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই সামাজিক সংগঠন হিসেবে নোয়াখালী জেলায় আস্থার জায়গা তৈরি করেছে সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন।