কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে হঠাৎ করেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে চালক-মালিকদের একাংশ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শহরের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীসহ লাখো মানুষ। রবিবার (২৮ আগস্ট) ভোর থেকেই অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুটি কয়েক ব্যাটারিচালিত অটো এবং রিকশাচালক যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকগুণ অতিরিক্ত ভাড়া।
এদিকে অটোচলাচল বন্ধ থাকায় সময় মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পেরে রাজশাহী পলিটেকনিকেলের সামনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে যানজট সৃষ্ঠি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী মহানগরবাসীদের অনেকেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিহার করে অবিলম্বে বিকল্প ইন্টারসিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন।
রাস্তায় চলাচলরত অটোচালকরা জানান, তারা সকালে গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করলে রাস্তায় কয়েকজন তাদের গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। এতে যাত্রী নিয়ে বিপদে পড়েন তারা। আগে থেকে তাদের ভাড়া বাড়ানো বা অটোচলাচল বন্ধের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। অটোচালকদের একটি পক্ষ রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে চাকার হাওয়া ছাড়ার কাজটি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী জলি খাতুন জানান, রবিবার সকালে নগরীর টুলটুলি পাড়ায় অবস্থিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্দেশে বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে বিপাকে পড়েন। রাস্তায় কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা না দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। হাতেগোনা যেসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছিল, তার একটিতে চড়তে গেলে তার কাছে ভদ্রার মোড় থেকে রেলগেটের ভাড়া চাওয়া হয় বিশ টাকা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই পথের ভাড়া পাঁচ টাকা।
নগরীর বিনোদপুরের বাসিন্দা রাহাত জানান, অটোরিকশা না থাকায় তিনি ভ্যানে করে বিনোদপুর থেকে রেলগেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রিক্সায় তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয় ৮০ টাকা। যা স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে তিনগুণ। কাটাখালির বাসিন্দা রাশেদ সাহেব বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসার পথে দুর্ভোগে পড়েন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই মুহূর্তে রাজশাহী মহানগরীতে স্বল্প পরিসরে হলেও ইন্টারসিটি বাস সার্ভিস চালু করা জরুরি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং রিকশাগুলো রাজশাহী মহানগরীতে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে যখন তখন জনগণকে জিম্মি করে ভাড়া বৃদ্ধির অযৌক্তিক দাবি করছে।
অন্যদিকে হঠাৎ অটোরিকশা চলাচল বন্ধে বিকল্প হিসেবে নগরীতে ভ্যানে করে অধিকাংশ যাত্রীদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী নগর ভবনের সামনে দ্রব্যমূল্য ও অটোপার্টসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে মালিক-চালকদের একাংশ।
এ বিষয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি সাগর দাবি করেন, তাদের না জানিয়েই একটি পক্ষ ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে হঠাৎ অটো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তারা এই বিষয়ে জানেন না বা এর সঙ্গে জড়িত নন। নওদাপাড়া ও তেরখাদিয়া ডাবতলা মোড়ের একটি সংগঠন তার কাছে এসেছিলো। তিনি তাদের কথায় পাত্তা দেননি। তাদের নাম ও সংগঠনের নাম জানতে চাইলে সাগর বলেন, এসবের পেছনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলর ইন্ধন দিচ্ছেন। তিনি রাসিক মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে কারা জড়িত তাদের নাম বলতে চান। তারপর সাংবাদিকদের জানাবেন বলে জানান।
এদিকে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, রাজশাহীতে অটো চালক-মালিকরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য অজুহাতে ভাড়াবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন রুটে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় শুরু করেছে। ফলে তাদের কাছে যাত্রীরা জিম্মি ও অসহায় হয়ে পড়েছে। এ কারণে নগরীতে চলাচলকারী কোনো অটোতেই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা রাখা হচ্ছে না। লাইসেন্স প্রদানকারী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এমনকি ট্রাফিক পুলিশও অটোতে ভাড়ার তালিকা টাঙানো তদারকি করছে না। ওয়াকিবহাল কোনো যাত্রী অটোতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানোর কথা বললে চালকরা তার সঙ্গে বেয়াদবি এমনকি সুযোগ বুঝে অপমানও করে। অধিকাংশ অটোচালকের আচরণ প্রায় অভিন্ন।
সিটি করপোরেশনের অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু জানান, ধর্মঘটের আগে কিংবা পরে তাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি তারা দেখছেন।