পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন

তথ্য ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে আর দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে, মানুষের জীবন সহজ হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে তরুণদের বেশ আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। ফলে খাতটি নতুন করে গতি পাচ্ছে। এই প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়েই আগামী ২০২৬ সালে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করবে। এটা আমাদের জন্য নিশ্চয়ই দারুণ এক অর্জন হতে যাচ্ছে। দেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে সোলার প্যানেলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আমরা চাইলে এই সময়ের মধ্যে দেশকে আরও দারুণ একটা জিনিস উপহার দিতে পারি আর সেটা হলো, সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে। সোলার বিদ্যুৎ যথোপযুক্ত ব্যবহার করে দেশে যেমন বিদ্যুতের অপচয় বা ঘাটতি অনেকটা রোধ করা গেছে ঠিক, তেমনি একটু প্রযুক্তির সহযোগিতা নিলে এই সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এক অভিনব সফলতা পাওয়া যেতে পারে গাড়ির ক্ষেত্রেও! 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, সেটা কীভাবে সম্ভব? বড় বাস-ট্রাক-মাইক্রোবাস এমনকি ট্রেনেও সোলার প্যানেল যুক্ত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব এবং সেই বিদ্যুতের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে গাড়ি চলতে পারবে। এতে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও দারুণ ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে ইঞ্জিন নতুন করে মডারেট করলেই হয়ে যাবে। বাংলাদেশের যে আবহাওয়া তাতে এটা ভালোভাবে কাজে লাগবে। শীতপ্রধান দেশে এটা সম্ভব নয়; কিন্তু বাংলাদেশের জন্য অনুকূল পরিবেশ। আমাদের দেশে ঋতুও বদলে গেছে, বলা চলে আগের ছয়টি ঋতু এখন তিনটি ঋতুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে যেমন গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল। তবু আবহাওয়া যথেষ্ট অনুকূলে থাকে, তাই চার্জের বিষয়টা নিয়ে সমস্যা পোহাতে হবে না।

গাড়িতে সোলার প্যানেল ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভালো সফলতা অর্জন করেছে। এটার ব্যবহার এখন দিনকে দিন প্রসারিত হচ্ছে, বিশেষ করে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এক্ষেত্রে তারা অনেকটা সফলতা দেখিয়েছে। তাদের অনেক তেল থাকা সত্ত্বেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং তেলের ওপর নিজেদের নির্ভরতা কমাচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে টেসলা ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো আমেরিকা এবং ইউরোপে ব্যবহার হচ্ছে। সেসব গাড়ি সরাসরি ইলেকট্রিক চার্জের মাধ্যমে চালিত; কিন্তু এটা অনেক ব্যয়বহুল। তাই আমাদের মতো দরিদ্র দেশে ওটা নিয়ে চিন্তা করা কঠিন হয়ে যাবে।

আমরা চাইলে সোলার প্যানেল যুক্ত করে সেই একই কাজটি সহজেই করতে পারি। ডিজেলচালিত গাড়ি যতটা দ্রুত যায় এই প্রক্রিয়ায় হয়তো গাড়ি ততটা জোরে যেতে পারবে না। কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। আগে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা লাগত সেই আমদানির পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে, বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে আসবে। ফলে লোডশেডিং আর থাকবে না। তেল পুড়ে যে ধোঁয়া বের হয়, তা মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করে; কিন্তু এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমে আসবে শূন্যের কাছাকাছি। এজন্য এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ভাবলে দারুণ সফলতা পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক : শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর