অবৈধ মজুতদারি কি থামবে না?

বলা হয়ে থাকে, ব্যবসা একটি উত্তম পেশা এবং যিনি ব্যবসা করেন তিনি একজন উত্তম পেশাজীবী। ব্যবসার রীতি হলো লাভ করা। তবে একজন ব্যবসায়ী লোকসানও করেন। অর্থাৎ, লাভ-লোকসান—এই দুই মেনেই এই পেশায় আসতে হয়।

একজন ব্যবসায়ী তার কোনো পণ্য আরেকজনের নিকট কিংবা সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় করেন। এই বিক্রয় হয় লাভের মূল্যে। মূলত এটি একজন ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক নীতি ও কাজ। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী যদি তার কোনো পণ্য—হতে পারে তা খাদ্য অথবা অন্য যে কোনো পণ্য—অতিরিক্ত লাভের আশায় বিক্রি না করে নিজের কাছে মজুত করেন ও তার এই কার্যকলাপের কারণে বাজারে প্রভাব পড়ে, তথা সেই পণ্যের সংকট তৈরি হয়, তাহলে কি তাকে কোনো স্বাভাবিক কাজ বলা যাবে? খোলাসা করে বললে, মানুষের ভোগের জিনিস ইচ্ছাকৃতভাবে বাজার থেকে অপ্রতুল করে তুললে তা অবশ্যই দোষের কাজ হিসেবে পরিগণিত হবে। এমনটি যে বা যারাই করবে, তারা দোষী হিসেবে প্রমাণিত হবে। সত্যি বলতে, এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারাও মানুষ এবং তারা মানুষ হয়েও এই হীন কাজ করে থাকে। সম্প্রতি জানা যায়, আগামী বছর অধিক মুনাফা করতে একাধিক অসাধু চক্র এখন থেকেই চাল মজুত শুরু করেছে। যাতে সেসময় অধিক লাভ করতে পারে। এর ফলে বাজারে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে—এ কথা বলাই বাহুল্য। এখন কথা হলো, গর্হিত কাজ জেনেও যারা করছে, তারা কি স্বাভাবিক মানুষ?

মোটাদাগে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ব্যবসা আর মজুতদারি কি এক? মজুতদারের কাজকে কি ব্যবসা বলা যাবে? না বলতে হবে মজুতদারি? বাস্তবিক অর্থে, বাজারকে অস্থির করে তুলে মজুতদারি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয় আর মানুষ না খেয়ে মরে। কিন্তু এমনটি তো চলতে পারে না। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে একটি প্রশ্ন জাগে, তাহলে আমাদের এখন কী করণীয়? কিংবা এই মজুতদারি নৈরাজ্য রুখতে আমাদের কি কিছু করার আছে? এর উত্তরে প্রথমেই বলতে হয়, এই মজুতদারি নৈরাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সমাজে বিরাজমান। তথাপি এই প্রবণতা রুখতে আমাদের করার আছে অনেক কিছুই। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো, আমরা এই নৈরাজ্য রুখতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। নিশ্চয়ই এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, সমাজের প্রতিটি মানুষকেই এই মুহূর্তে নিজেদের প্রয়োজনেই সোচ্চার হতে হবে অবৈধ পণ্য মজুত ও মজুতদারির বিরুদ্ধে। যে মজুতদারি মানুষকে কষ্ট দেয়, তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতেই হবে। দরকার হলে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে। বলতে হবে—‘এই বাংলায় মজুতদারি আর নয়’। এক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মিডিয়ায় মজুতদারির কুফল সম্পর্কে আরো বেশি বেশি সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রচার করা যেতে পারে। বেশি করে লেখালেখি হতে পারে। পাশাপাশি আমাদের প্রশাসনকে এই ব্যাপারে আরো তৎপর হতে হবে। এই সমস্ত কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে এক্ষেত্রে বেশ সুফল মিলবে। সর্বোপরি, অবৈধ মজুতদারকে রুখতে হবে। ব্যবসার নামে যারা মজুতদারি করে তাদের থামাতেই হবে। আজকের দিনে আসলেই এর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়