দেশে পরিত্যক্ত রেলপথের পরিমাণ ১৫৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার, এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার। আর এই পরিত্যক্ত রেলপথে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাব ও অবহেলায় অধিকাংশ রেলওয়ের যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্ট যেটুকু আছে, তাও মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
এছাড়া ব্যবহৃত মূল্যবান নাটবল্টু, তার, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ স্টেশনের বন্ধ রেলপথের কোনো মালামালই এখন আর আগের মতো নেই। কিছু রেল তুলে রাখা হলেও ফিশপ্লেট, ফিশবোল্ট, স্লিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মালামালে অস্তিত্বই নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে পরিত্যক্ত রেলপথের বেশির ভাগ মালামালই রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে চুরি ও নষ্ট হয়েছে। পরিত্যক্ত এ রেলপথের মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া শাখা লাইন এবং বিভিন্ন স্টেশনের সাইডিং লাইন রয়েছে। এগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় মাটিতে ঢেকে গিয়েছে। ফলে অকেজো হয়ে পড়েছে বিদ্যমান স্লিপার।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিত্যক্ত রেলপথ আছে ৩০ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাবনায় ভাঙ্গুরা সাইডিং লাইনের ৮৬৫ মিটার, নওগাঁর আত্রাই ঘাটলাইন ১, ২ ও ৩ এর ৬৬৮ মিটার ডাবল হেড রেল রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে গাইবান্ধা জেলায়, ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ত্রিমোহনী-বালাসীঘাটের ৯ কিলোমিটার ও বোনারপাড়া-ভরতখালীর ৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ফিটিংস পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে ১২ কিলোমিটার পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে লালমনিরহাট জেলায়।
এবিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামো অবহেলিত ছিল। ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত রেলওয়ে খাতে কোনো উন্নয়ন তো হয়নি, উল্টো জনবল কমিয়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে অনেকগুলো স্টেশন ও রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। দেশের ১৫৮ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার এটা একটা বড় কারণ। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে রেলওয়ে খাতে প্রভুত উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বর্তমান রেলওয়ে বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথ ও স্টেশনগুলো চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সবগুলো জেলাকে রেলের নেটওয়ার্কে আনার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।