ইতিহাসের পাতায় নাম উঠল আরো একটি বছরের। ২০২২ সালের বিদায়ের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্ত, নতুন প্রহের হাজার হাজার স্বপ্ন ও প্রত্যাশার বার্তা নিয়ে দিনপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বছর—২০২৩। অভিনন্দন জানাই ইংরেজি নতুন বছরকে। অভিনন্দন জানাই ২০২৩-এর বিশ্বকে।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে যাত্রা শুরু করে নববর্ষ-২০২৩। পুরোনো বছর পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার ঊষালগ্নে জমকালো আয়োজনে মেতে ওঠে বিভিন্ন দেশ, দেশের মানুষ, যা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ নামে পরিচিত। থার্টি ফার্স্ট নাইটের ছোঁয়া পৃথিবীর নানান দেশের মতো আমাদের দেশেও লেগেছে সমানভাবে—এই চিত্র দেখা যায় প্রতি বছরই।
পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ নববর্ষের প্রথম দিনটি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি মেনে পালন করে। ইতিহাস পর্যবেক্ষণে বলা যায়, এখন থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে শুরু হয় নববর্ষ পালনের রীতি। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার হাত ধরে নববর্ষ উদযাপনের এই রীতির প্রচলন ঘটে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ব্যাবিলনবাসী প্রায় ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বিপুল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ শুরু করে। প্রাচীন ব্যাবিলনে নতুন বছর শুরু হতো চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ সালে রোমান সিনেটররা ঘোষণা করেন, জানুয়ারির ১ তারিখই হবে বছরের পয়লা দিন। পরবর্তীকালে সম্রাট জুলিয়াস সিজার নববর্ষের গণনারীতি ও উদযাপন পুনর্নির্ধারণ করেন। এ কারণে একে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারও বলা হয়। এই ধরাবাহিকতায় ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করে নতুন বর্ষপঞ্জি ঘোষণা করেন। সেই অনুসারে এবং তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী ১ জানুয়ারি নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে।
নতুন বছরের প্রথম দিনে দাঁড়িয়ে আমরা। সবার মনে নতুন স্বপ্ন, নব আশা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সবার প্রতিশ্রুতি হোক শিক্ষার, সচেতনতার ও সুরক্ষার। প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ হোক। শপথ হোক সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার। শপথ হোক মানবিকতার। শপথ হোক মূল্যবোধ জাগরণের। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের মধ্যে জ্ঞানের আলো প্রজ্বালনের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ হোক। নবাগতদের বিদ্যালয়মুখী করার, তাদের নানা স্মৃতি ও নতুনত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় জেগে উঠুক সবার মধ্যে। বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ, আর নতুন বছরে বইয়ের নতুন সুভাষ তো প্রতিটি শিশুর অধিকারই। মনে রাখতে হবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের জাঁতাকলে পড়ে শিশুশ্রম দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। আমাদের এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসার প্রত্যয় হোক নতুন বছরে। মাদকের বিস্তার বন্ধ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। সমাজ রক্ষায় মাদকবিরোধী সচেতনতা চালাতে হবে। উঠতি বয়সি তরুণদের জন্য নানা উন্নয়নমুখী কর্মশালার আয়োজন করতে হবে। তাদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মাদক যেন আর তরুণদের গ্রাস করতে না পারে, সে বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে সবাইকে। সচেতনতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হোক—নতুন বছরের প্রত্যয় হোক এটাই।
ডিজিটাল সময়ের কঠিন ছকে বাঁধা পড়েছি আমরা। প্রযুক্তির অপব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে লোমহর্ষক সব অপরাধ বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় প্রযুক্তির আশীর্বাদ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রযুক্তির অভিশাপ বন্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সমাজকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। সমাজের সুরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে আমাদেরই। নতুন বছরে এগিয়ে যাক সমাজ। নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাক দেশ। নতুন আঙ্গিকে শুরু হোক নবজীবনের জয়যাত্রা—নতুন বছরে প্রত্যাশা এটাই।
লেখক : শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ