ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

রাজশাহীর তানোরে ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল করে পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মুণ্ডমালা পৌর সভার মেয়র সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওয়াকফ এস্টেটের তিনজন মোতাওয়াল্লি তানোর থানায় মুণ্ডমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার মুণ্ডমালা পৌরসভার পাঁচন্দর মৌজার জে-এল নং ৭০, আরএস খতিয়ান নং ১৯৩, সেখানে মোট ১১ বিঘা সম্পত্তি চাপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা কিসমতুল্লাহ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি। 

ওই সম্পত্তির (ফসলি জমির) মাঝ দিয়ে ১০/১২ ফুট চওড়া ও ৫শ’ ফুট লম্বা জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক পাকারাস্তা নির্মাণ শুরু করেছেন মুণ্ডমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান। এনিয়ে যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবি সমঝোতার মাধ্যমে রাস্তাটি প্রশস্ত করা হোক। 

আমনুরা কিসমতউল্লাহ ওয়াকফ এস্টেটের তিনজন যুগ্ন মোতাওয়াল্লি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা মিয়াপাড়ার মৃত মহাসিন আলী মিয়ার পুত্র রফিকুল ইসলাম, মৃত হাসিম উদ্দিন মিয়ার পত্র জিয়াউর রহমান ও মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার পুত্র নুরুল ইসলাম মেয়রকে কাজ বন্ধের অনুরোধ করেন। কিন্তু মেয়র সাইদুর রহমান তাদের কথায় কোন কর্ণপাত না করে জোরপূর্বক রাস্তার নির্মাণের জন্য ওই ৩ ফসলি সম্পত্তির ওপর ইট বালি ফেলে রাস্তার নির্মাণ কাজ করেন। ওই ৩ ফসলি জমিতে ইট ও বালি রাখার ফলে তারা বোরো চাষও করতে পারছেন না। 

সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, তানোর-মুণ্ডমালা সড়কের মাহালীপাড়া নামকস্থান থেকে দক্ষিণে বাগমারাপাড়া যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন আগে ইটের সোলিং এর আরসিসি ৬ ফুট প্রশস্ত ৮শ’ মিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করা ছিল। ওই রাস্তাটিই বর্তমানে ১২ ফুট চওড়া করে পাকা করার কাজ শুরু করা হয়েছে। ওই রাস্তা নির্মাণ করা হলে কিসমতুল্লাহ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশস্ত ১২ ফুট ও লম্বায় প্রায় ৫শ’ ফুট সম্পত্তি (ফসলি জমি) পড়বে যার পরিমাণ প্রায় ১ বিঘা। যার বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে আমনুরা কিসমতউল্লাহ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি রফিকুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা নির্মাণে তার প্রায় ১ বিঘা জমি রাস্তার ওপর পড়বে। তাদের না জানিয়ে এবং আইন অমান্য করে জোরপূর্বক ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি মাঝ দিয়ে রাস্তার কাজ শুরু করেছেন মেয়র সাইদুর রহমান। 

এ ব্যাপারে মুণ্ডমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আগে থেকেই ৬ ফুট চওড়া ইটের সোলিং রাস্তা ছিল, যা বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে রাস্তাটি প্রশস্ত করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একাধিকবার গ্রামের লোকজন নিয়ে ওই সম্পত্তির মালিকের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার জন্য আরও ২ ফুট (মোট ৮ ফুট) রাস্তা নির্মাণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা ক্লিয়ারলি কিছুই বলেননি। বিষয়টি তাদের সঙ্গে বসে আপোষ করা হবে বলেও জানান মেয়র সাইদুর রহমান।