তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে নিহতের সংখ্যা। ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে কাজ চলছে। জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবু স্বজনদের ফিরে পেতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে অনেকে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন। খবর এনডিটিভি।
এদিকে এ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে তুরস্কের ১০টি অঞ্চল। বিধ্বস্ত অঞ্চলগলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে ধ্বংসস্তূপ এলাকায় লুটপাটও চলছে। লুটপাটের এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভিন্ন ভিন্ন আটটি প্রদেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সানলিউরফা শহর পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু তুরস্কেই এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার ১০৪ জন আহত হয়েছেন। সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় প্রথমিকভাবে উদ্ধারকাজের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তুরস্কের এক কোটি ৩৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন।
তুরস্কে ভূমিকম্পের ১২৯ ঘণ্টা পর পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। গাজিয়ানতেপ প্রদেশের নুরদাগ শহর থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করে তাঁদের বের করে আনার পর উদ্ধারকর্মীরা ‘সৃষ্টিকর্তা মহান’ বলে তাঁদের আনন্দ প্রকাশ করেন। স্থানীয় পত্রিকা হেবারতুর্কের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রথমে মা হাভভা ও মেয়ে ফাতমাগুল আসলানকে উদ্ধার করেন। এরপর উদ্ধারকর্মীরা বাবা হাসান আসলামকে খুঁজে পান। এ সময় তিনি মেয়ে জায়নেপ ও ছেলে সালতিক বুগরাকে প্রথমে উদ্ধার করতে অনুরোধ করেন।