খুলনায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

খুলনায় চাঞ্চল্যকর ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি কাজী আরিফুল ইসলাম প্রীতমকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব সদস্যরা। শনিবার (১৫ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর-১০ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

রোববার (১৬ এপ্রিল) তাকে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৬’র মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আনাম বান্না তার গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব-৬’র মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি তারেক আনাম বান্না জানান, ভিকটিম ষষ্ঠ শ্রেণির একজন ছাত্রী। সে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় বসবাস করতো। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ভিকটিমের সঙ্গে আসামি শান্ত বিশ্বাসের পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ২৯ জুন শান্ত বিশ্বাস মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমকে নগরীর সাহেবের কবরখানার সামনে ডেকে নেয়। সেখান থেকে কৌশলে সে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বিহারী কলোনীর মোড়ে অবস্থিত ৫ নম্বর আসামির ভাড়া বাসায় নিয়ে আসামিরা পালাক্রমে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি তখন বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিচারকাজ শেষে আদালত উক্ত গণধর্ষণ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি কাজী আরিফুল ইসলাম প্রীতমসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফুল ইসলাম প্রীতম পলাতক ছিলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-৬’র সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল উক্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কাজী আরিফুল ইসলাম প্রীতমকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরুসহ অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬’র সদর কোম্পানি এবং র‌্যাব-১, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল গত শনিবার রাতে গাপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার পল্লবী থানার মিরপুর-১০ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গণধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কাজী আরিফুল ইসলাম প্রীতমকে গ্রেপ্তার করে। তাকে রোববার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।