গুমের আশঙ্কা করছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র ও আসন্ন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেন, হয়তোবা কালকের পরে আমার পায়ে শিকল পরতে পারে, আমাকে অ্যারেস্ট করতে পারে, আমাকে গুম করতে পারে। আমি দেশবাসী ও নগরবাসীকে বলে যাই, যদি আমার মৃত্যু হয় আপনারা বিশ্বাস করবেন শহরকে রক্ষায় যা যা ভালো কাজ আছে আমি তা করেছি। অনেকে মিথ্যাচার করতে পারে। অনেকে আমাকে ফাসিয়ে দিতে পারে, আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কয়েকজন সমর্থকসহ নিজের এবং মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি একজন নাগরিক হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আমি যদি গাজীপুর শহরের ভালো করে থাকি, প্রত্যেক নাগরিকের পায়ে হাত দিয়ে বলতে চাই, আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। এই শহরকে ধ্বংস করার জন্য কিছু লোক পাঁয়তারা শুরু করেছে। শহরকে রক্ষা করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমি প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আমি এই শহরের সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।
তার সঙ্গে অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু মানুষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার ক্ষতি করেছে, শহরের মানুষের ক্ষতি করা হয়েছে। একটা বিথ্যার জয় হয়ে গেছে, সত্যের পতন হয়েছে। মিথ্যাকে যারা সত্যা বানিয়েছে তাদেরও বিচার চাই।
নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু-সুন্দর ভোট চান জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক ভোট চাই। আমি কোনো অন্যায় করে থাকলে শহরের মানুষ ভোটের মাধ্যমে বিচার করবে। যদি ভালো কিছু করে থাকলে আমাদের জয় হবে, সত্যের জয় হবে।
তিনি বলেন, আমি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখানে কথা বলছি না। যেহেতু আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি, আমি বলছি, যারা ভালো লোক তাদের ভোট দেওয়া ভালো, আর যারা খারাপ লোক, তাদের ভোট না দেওয়া ভালো।
প্রসঙ্গত, গত নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ছিল অনেকটাই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি মুহূর্তেই মহানগরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। তিনি এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি করে। যেখানে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে শোনা যায় জাহাঙ্গীর আলমকে। বিতর্কিত ওই অডিও বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বেশকিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর তাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলাও হয়। পরে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বহিষ্কৃতদের ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষমা চাওয়ায় প্রায় এক বছর তিন মাস পর গত ১ জানুয়ারি এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে কিছু শর্ত মানার বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়েছে।