সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির কোনো প্রার্থী অংশ না নিলেও বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের ভোট কার বাক্সে যাবে সেই হিসাব নিকাষ চলছে এখন সিলেটে। এ নিয়ে দোটানায় ঘুরপাক খাচ্ছেন ভোটাররা।
প্রথম অবস্থায় সিসিক নির্বাচনে বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থ হিসাবে মেয়র পদে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন-এমনি ধারণা ছিল নগরবাসীর। কিন্ত পরবর্তীতে তার দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিলে তার সমর্থকরা হতাশ হন।
মূলত আরিফুল হকের এই ঘোষণার পর থেকে সিসিক নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সেই আগ্রহ হারিয়ে যায়। সিলেটে নির্বাচনী আবহ যেন সে রকম তুঙ্গে উঠছে না। কারণ এবার সিসিক নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ হওয়ার কথা সেটা নেই। তাই চায়ের আসরে মেয়র পদে নির্বাচন আলোচনা তেমন জমছে না। তবে মহল্লায়-মহল্লায় কাউন্সিলার প্রার্থীরা দিনরাত নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন।
নগরের অনেকেই প্রশ্ন করে বলছেন, বর্তমানে মেয়র পদে যে ৮ জন লড়াইয়ে নেমেছেন। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেই অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। তবে বাকি ৭ জন মেয়র প্রার্থী জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের নজরুল ইসলাম বাবুল।
আবার অনেকেই মনে করছেন বাবুল যদি বিএনপি জামায়াত সমর্থকদের ভোট টানতে পারেন, তাহলে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে।
তবে আনোয়রুজ্জামানের সমর্থকরা বলেছেন, এবার সিসিক নির্বাচনে নৌকা বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে। তারা এ মর্মে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, নৌকা পাস হলে সিলেট নগরী সত্যিকার অর্থে একটি স্মার্ট নগরীতে পরিণত হবে।
এক সময় সবার ধারণা ছিল বিএনপি ও আরিফবিহীন নির্বাচন হবে একতরফা। আর খালি মাঠে গোল দেবেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কিন্তু আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও বসে নাই। হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান হাত পাখা নিয়ে নগরে ঘুরছেন।
নৌকা প্রতীকে মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেটের মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তাই সিলেটের উন্নয়নের জন্য তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু অপরিকল্পিত কাজের জন্য নগরবাসী এর সুফল পাননি। একটি পরিকল্পিত নগরীর প্রত্যাশায় নগরবাসী নৌকা প্রতীক বেছে নিয়েছে। নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, এই সরকার বা সরকার দলীয় প্রার্থীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নেই। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। তারা চাইছে জাতীয় পার্টির মতো দেশদরদী দলের প্রতিনিধি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, নগরবাসী আর সরকার দলীয় মেয়র দেখতে চাইছেন না। মানুষ পছন্দের প্রতীক হিসেবে হাতপাখাকে বেছে নিয়েছে।
গাজীপুর ও সিলেট এক নয়
গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল দেখে সিলেটের রাজনৈতিকদের মাঝে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। যদিও অনেকেই বলছেন, ‘গাজীপুর আর সিলেট এক নয়’। তবুও আতঙ্ক দূর করতে আওয়ামী লীগের নেতারা কেন্দ্র থেকে আসছেন দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে।
অন্যদিকে নৌকার পক্ষের ভোটারদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।