রুবিক্স কিউবে খ্যাতিমানদের চেহারা ফুটিয়ে তোলেন এই তরুণ

রুবিক্স কিউব আবিষ্কারের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এর গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। চৌকোনা আকৃতির বেশ কয়েকটি রঙের সংমিশ্রণে এই বস্তুটি নিয়ে নানা জনকে নানা কায়দায় অনেককিছু করতে দেখা যায়। এটি মূলত একটা ত্রিমাত্রিক পাজল, যা এলোমেলো করে আবার মেলানোর বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। অনেকেই খুব দ্রুতসময়ে রুবিক্স কিউব মিলিয়ে রেকর্ডও করেছেন।

তবে এবার রুবিক্স কিউব নিয়ে খানিকটা ব্যতিক্রম কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী মহতামিম জয়। বিশ্বের কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তির পাশাপাশি দেশের কয়েকজন জনপ্রিয় মানুষের প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন তিনি। এজন্য প্রায় ৯০০টি কিউব ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে।

মহতামিম জয় জানান, কাগজ কলমে অনেকেই পিক্সেল আর্ট করে থাকে। বিভিন্ন রঙয়ের উপাদান ব্যবহার করেও সেরকম কাজ করা যায়। তবে কিউব ব্যবহার করে এমন ব্যতিক্রম কিছু একটা তৈরির চিন্তা তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল বেশকিছুদিন ধরেই। এরইমাঝে নিজের বোনের সঙ্গে একবার ঝগড়া বাঁধে তার। প্রিয় বোনের রাগ ভাঙাতেই কিউব দিয়ে বানিয়ে ফেলেন তার প্রতিচ্ছবি। এটাই ছিল প্রথম কাজ। এরপর একে একে পছন্দের গায়ক তাহসান, চিরকুটের সুমি, আয়মান সাদিক, হুমায়ূন আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী ও হলিউডের ‘থর’ খ্যাত ক্রিস হেমসওয়ার্থ, প্রীতম হাসান, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাবরুর রশিদ বান্নাসহ লিওনেল মেসির মুখায়বের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন রুবিক্স কিউবে।

মহতামিম জয় বলেন, ‘২০১২ সালে বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম স্কুলবাসের অপেক্ষায়। পাশের এক দোকানে ছোটোখাটো এক চৌকোনা আকৃতির একটি জিনিস দেখে কিনে দিতে বায়না করি আম্মুর কাছে। স্কুল শেষে বাসায় গিয়ে জানতে পারি এটি রুবিক্স কিউব। অনেক চেষ্টার পর কিউবের এক সাইড মেলাতে সক্ষম হই। পরবর্তী সময়ে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে বাকিটা শেখা।'

কিউব ব্যবহার করে প্রতিকৃতি তৈরির ব্যাপারে জয় বলেন, 'এক্ষেত্রে প্রথমত একটি ছবিকে ফটোশপে এডিট করতে হয়। পরবর্তী সময়ে কিউব দিয়ে পুরো কাজটি শেষ করতে আনুমানিক ১০-১২ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়। আর সংখ্যার দিক থেকে আসলে এটি পিক্সেলের খেলা। যতো বেশি পিক্সেল হবে, ছবি তত স্পষ্ট আসবে।’

শিক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করছেন জয়। আর সেখানেই ক্যারিয়ার গড়তে চান। ছবি আঁকার বিষয়টি একান্তই শখের বিষয়। তাই শখকে প্রফেশনের সাথে মেলানোর কোনো ইচ্ছে নেই মহতামিমের।