৭১ বছরে দৈনিক ইত্তেফাক

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আজ গণমানুষের মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাক ৭১ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ইত্তেফাক অফিসে কেক কাটেন ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এ সময় ইত্তেফাকের সংবাদকর্মীসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

জন্মলগ্ন থেকেই দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে। ইত্তেফাকের যাত্রা আর স্বাধীন বাংলাদেশের অভিযাত্রা ছিল এক এবং অভিন্ন। দীর্ঘ পথচলা। গত সাত দশক ধরে ইত্তেফাক প্রকাশিত হচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দৈনিক ইত্তেফাক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে চলেছে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া যে আপসহীন যাত্রা শুরু করেছিলেন, পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে তা আজও এগিয়ে চলেছে। এই পথচলা খুব মসৃণ ছিল না।

বাংলাদেশের জন্মেরও আগে ছয় দফা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং রক্তের দামে কেনা সেই দেশের উন্নয়নের পথযাত্রা—প্রতিটি পদক্ষেপ ইত্তেফাক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। সময়ের দাবি মিটিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। ইত্তেফাক সবসময় সত্য ও দেশের স্বার্থের প্রতি অবিচল থেকেছে। মুক্তিযুদ্ধ দৈনিক ইত্তেফাকের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।

১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের বিরোধী সংগঠন হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। সে বছরই নবগঠিত সংগঠনের মুখপত্ররূপে ‘সাপ্তাহিক ইত্তেফাক’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কলকাতা প্রত্যাগত তফাজ্জল হোসেন সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৫১ সালের ১৪ আগস্ট থেকে এই পত্রিকার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুসলিম লীগের ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে তফাজ্জল হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, সহযোগিতায় ও মওলানা ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইত্তেফাককে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ করেন। তফাজ্জল হোসেন এই পত্রিকার সম্পাদক। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তত্কালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের যে ভরাডুবি হয়—এর পেছনে ছিল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার শক্তিশালী রিপোর্ট ও মানিক মিয়ার ক্ষুরধার লেখনি।

ইত্তেফাক দাবি না করলেও, সাধারণের মধ্যে এমন কথা চালু রয়েছে, দৈনিক ইত্তেফাক ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে বর্তমানের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক যে পথযাত্রা—সেই পথে সমান্তরালভাবে ইত্তেফাকও নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। যে কোনো ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের জন্য দিকনির্দেশনামূলক সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে।