রাজশাহী-৬

চার নেতার নামে মাইকিং করে নিজের ভোট চাইছেন রায়হানুল হক

রাজশাহীর সবকটি সংসদীয় আসনে নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ দিকে থেকে রাজশাহী-৬ চারঘাট-বাঘা আসনের চিত্র প্রকট। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত তিন আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। 

তিনি হলেন রায়হানুল হক রায়হান। বাড়ি চারঘাট উপজেলা। তার প্রচার মাইকে অপর দুই মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং বাঘার মেয়র আক্কাছ আলীসহ চার নেতার নাম যোগ করা হয়েছে। 

এরা হলেন বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোকাদ্দেস ও পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম (মেরাজ)। এই দুজনের মধ্যে নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রায়হানুল হকের নির্বাচনী এজেন্ট মেরাজুল ইসলামকে  দুই বার শোকজ নোটিশ দিয়েছেন রাজশাহী জেলা রিটানিং অফিসার ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামিম আহাম্মেদ। বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাইকিং প্রচার-প্রচারণায়  এই চার নেতার নামে ভোট চাওয়া হচ্ছে। এদিক থেকে প্রার্থীর নিজ এলাকা চারঘাট থেকে কারও নাম যোগ না হওয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে সবমহলে। 

Bagha(02)26-12-23

বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় এখন সরব হয়ে উঠেছে মাইকিং। এতে নিজ নিজ প্রার্থীরা নিজেদের সৎ ও নিষ্ঠাবান দাবি করে তাদের প্রতীকে ভোট চাইছেন। সেইসঙ্গে প্রার্থী নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ফুলঝুরি ফোটানোর প্রতিশ্রুতি জানান দিচ্ছেন। এদিক থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হানুল হক রায়হান, তার প্রতীক (কাচি মার্কায়) ভোট চাচ্ছেন বাঘার চার জনপ্রতিনিধির নামে।

সেখানে বলা হচ্ছে:  লাভলু-আক্কাছ যেখানে, কাচি মার্কা সেইখানে। মোকাদ্দেস-মেরাজের মার্কা কি? কাচি ছাড়া আবার কি। এ ছাড়াও কিছু ‌‌‘রায়হান সমার্থক’ অতি উৎসাহী হয়ে ঐ চার নেতার ছবি সেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চলাচ্ছে। অথচ রায়হানুল হক এই প্রচারণায় তার নিজ উপজেলা চারঘাটের কোন নেতা-কিংবা জনপ্রতিনিধির নাম সম্পৃক্ত করেননি। ফলে এ নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবমহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, রায়হানুল হক চারঘাটে নিজের অবস্থান শক্ত করতে বাঘার নেতাদের ব্যবহার করেছেন।

bhaga-2

এদিকে দুই উপজেলা আওয়ামী নেতারা জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দুইবারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দূর্গে এবার দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেন তিন নেতা। এরা হলেন, বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘা পৌর মেয়র আক্কাস আলী ও চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা ও সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক রায়হান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের সমর্থনে চতুর্থবারের ন্যায় আবারও দলীয় মনোনয়ন নৌকা পান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। 

এর ফলে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা রায়হানুল হক রায়হান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোট যুদ্ধে নামেন। অতঃপর তার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, বাঘার আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাছ আলী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোকাদ্দেস ও পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলামসহ তাদের লোকজন। 

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে চারঘাট-বাঘায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান রায়হানুল হক রায়হান। তখন বিদ্রোহী প্রার্থী হন আক্কাস আলী। এর ফলে এখানে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্ষীয়ান নেতা কবির হোসেন। তবে ২০০৮ সাল থেকে একটানা তিনবার নৌকার মাঝি হন শাহরিয়ার আলম। তার সঙ্গে বিগত দুই টার্ম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে খেলেছেন রায়হানুল হক রায়হান। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। এ কারণে এবার মনোনয়ন বঞ্চিতরা তাদের লোকজন নিয়ে এক সঙ্গে জোট বেঁধেছেন।